হেড লাইন

আজ পবিত্র ১০ই মুহররম শরীফ ইমাম হুসাইন রদ্বিঃ ওনার পবিত্র শাহাদাত বার্ষিকী
Showing posts with label শিয়া. Show all posts
Showing posts with label শিয়া. Show all posts

August 24, 2017

চরমপন্থী শিয়াদের শ্রেণী বিভাগ

 এর   ঘালী   বা   চরমপন্থী   শিয়াদের  শ্রেণী  বিভাগ: (২৪) 
অধ্যক্ষ এম এ জলিল রহঃ
================================
উপরে      উল্লেখ        করা      হয়েছে      যে,      চতুর্থ      ফির্কার শিয়াদেরকে   ঘালী  বা  চরমপন্থী  শিয়া  বলা  হয়।   এরা পুনরায় চব্বিশটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এদের মূল আক্বীদা       হলো       -        ”হযরত       আলী-        ই-       খোদা” (নাউযুবিল্লাহ)। এই আক্বীদার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়েই  তাদের  মধ্যে  এই  চব্বিশটি  উপ-  শাখার  সৃষ্টি  হয়। সংক্ষেপে তাদের ইতিবৃত্ত ও আক্বীদা নিম্নে  প্রদত্ত হলো:



১। সাবাইয়্যা শিয়া:  এরা আবদুল্লাহ ইবনে সাবা নামক ইহুদি   চরের   অনুসারী।   চরমপন্থী   এই   শিয়া   গ্রুপের  আক্বীদা  হলো   -    ”হযরত  আলী  -ই-   খোদা”।  হযরত আলী শাহাদত  বরণ করার পর  আবদুল্লাহ ইবনে সাবা প্রচার   করে   যে,   ”তিনি    মরেননি    -     ঘাতক    আবদুর  রহমান ইবনে মূলজেম হযরত  আলীকে  শহীদ   করতে পারেনি   -  বরং    একটি   শয়তান  হযরত  আলীর  সুরত ধারণ  করেছিল। ইবনে  মূলজেম তাকেই হযরত আলী  মনে    করে    কতল    করেছে।    ঐ   সময়     হযরত   আলী আকাশের  মেঘ   মালায়  লুকিয়ে   যান    এবং  বর্তমানের মেঘের  গর্জন  হযরত  আলীরই  গর্জন।  মেঘের  বিদ্যুত  হচ্ছে     হযরত     আলীর       তরবারী     বা     কোড়া।     তিনি পৃথিবীতে  আবার  নেমে  আসবেন  এবং  তাঁর  শত্রুদের  থেকে প্রতিশোধ নেবেন”।

এ   কারণেই  চরমপন্থী   এই     শিয়া   গ্রুপ  মেঘের  গর্জন শুনলেই      বলে      উঠে      ”আলাইকাচ্ছালাম      আইয়ুহাল  আমীর”  অর্থাৎ  হে  আমিরুল  মুমিনীন!  আপনার  উপর  ছালাম বর্ষিত হোক। তাদের এ কুধারণা কুসংস্কারেরই ফলশ্রুতি। তাদের ধারণা মতে যদি সত্যি সত্যি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু  মেঘ মালায় লুকিয়ে থাকতেন, তাহলে এখনই     তাঁর  শত্রুদের নিপাত করতেও সক্ষম হতেন।  এত   দীর্ঘ  প্রতীক্ষার  কি  প্রয়োজন?   (তোহফা  ইসনা আশারিয়া)

২।     মুফাদ্দালিয়া  শিয়া:  চরমপন্থী   দ্বিতীয়   শাখা   হলো মুফাদ্দাল সাইরাফী নামক নেতার অনুসারী  দল। প্রথম শাখার আক্বীদা তো এরা পোষণ করেই - তদুপরি আর একটু অগ্রসর হয়ে তারা বলে - ”হযরত আলীর সম্পর্ক আল্লাহর   সাথে  ঐরূপ   -   যেরূপ  সম্পর্ক  ছিল  আল্লাহর সাথে ইছা নবী আলাইহিস সালামের”।

এদের   আক্বীদা আর খৃষ্টানদের  আক্বীদা  এক। আল্লাহ ও   বান্দাকে   তারা   এক    মনে     করে।   তাদের    আরো বিশ্বাস     -   নবুয়ত    ও    রিসালাতের    ধারা    খতম   হয়ে  যায়নি। যেসব বুযর্গের সাথে লাহুতি জগত (উর্দ্ধজগত) সম্মিলিত  হয়,  তাঁরা   হলেন   নবী।   এই   নবীগণ   যখন  মানুষকে হিদায়াতের আহবান জানান, তখন তাঁদেরকে বলা    হয়    রাসুল।    এই    চরমপন্থী     মুফাদ্দালিয়া    গ্রুপ  থেকেই       অতীতে       নবুয়ত       ও       রিসালাতের       ভন্ড  দাবিদারদের উদ্ভব হয়েছিল। বর্তমানে কাদিয়ানী গ্রুপ এবং  দেওবন্দ  মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কাছেম   নানুতবীও কুরআনের  খতমে নবুয়ত  সংক্রান্ত    আয়াতটির এভাবে অর্থ করেছে - ”তিনি নবীগণের ভূষণ ও আফযল নবী - তাঁকে     শেষ      নবী     মনে      করা      জাহেলদের       কাজ” (তাহযীরুন্নাছ)।

৩।   ছারিগীয়া   শিয়া:        এই  গ্রুপ  ছারিগ   নামক  শিয়া নেতার  অনুসারী।  দ্বিতীয়  মুফাদ্দালিয়া  গ্রুপ  এবং  এই  তৃতীয় গ্রুপের মতবাদ  প্রায়  একই  রূপ। তবে  পার্থক্য শুধু এতটুকু  যে, দ্বিতীয় গ্রুপের মতে যে  কোন বুযুর্গের মধ্যেই   আল্লাহ   হুলুল  (প্রবেশ)   করতে  পারেন।    কিন্তু  ছারিগীয়ারা         এই      হুলুল     বা     প্রবেশ      নিম্ন     লিখিত পাঁচজনের    মধ্যেই   সীমাবদ্ধ   বলে    মনে   করে।   তাঁরা হলেন:   নবী  করিম  সাল্লাল্লাহু    আলাইহি   ওয়া  সাল্লাম, হযরত  আব্বাছ,  হযরত  আলী,    তাঁর  দুই  ভাই  হযরত জাফর ও হযরত আকিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম।

৪। বাজিইয়া শিয়া: চরমপন্থী ঘালী শিয়াদের চতুর্থ দল হলো বাজিইয়া গ্রুপ। বাজি  ইবনে  উইনুছ  নামের এক শিয়া   নেতার   অনুসারি     এরা    এদের    আক্বীদা   হচ্ছে: ”শুধুমাত্র   ইমাম  জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু  এর মধ্যেই  খোদায়ীত্ব   প্রবেশ করেছে  - অন্য কারও মধ্যে নয়।    তাদের   মতে     -    আল্লাহ    তায়ালা    এক   ব্যক্তির মধ্যেই  প্রকাশিত   হয়েছেন  মাত্র।  তবে তিনি দেহধারী  নহেন”।  তারা    বলে     -  ”ইমাম  জাফর  সাদেকের  পর অন্য  কোন  শিয়া ইমাম খোদা হতে পারবেন না। তবে তাদের নিকট ওহী অবতীর্ণ হবে এবং তাদের মেরাজও সংঘটিত হতে পারে”।

৫। কামিলিয়া   শিয়া: আবু কামিল  নামক জনৈক  শিয়া  নেতার অনুসারী এই দল। এজন্য তাদেরকে কামিলিয়া নামে  আখ্যায়িত  করা  হয়।    এদের  চরমপন্থী   আক্বীদা হচ্ছে ”আত্মা  এক  দেহ হতে অন্য দেহে প্রবেশ করতে পারে। কোন দেহ মরে গেলে বা ধবংস হয়ে গেলে তার আত্মা   অন্য  দেহ ধারণ করতে পারে”। তাদের  ধারণা  মতে   ”আল্লাহর   পবিত্র   আত্মা   প্রথমে   আদমের   মধ্যে  সন্নিবেশিত     হয়েছিল।     ক্রমান্বয়ে     শীশ     পয়গাম্বরের  মাধ্যমে    অন্যান্য   নবীগণের    মধ্যেও    আল্লাহর   পবিত্র আত্মা স্থানান্তরিত হয়েছে”। তারা বলে - ”যেসব সাহাবা হযরত আলীর খিলাফত স্বীকার করেননি - তারা সবাই কাফির   এবং  হযরত  আলীও   কাফির   -   কেননা  তিনি তাঁর ন্যায্য অধিকার দাবী করেননি”। (নাউযুবিল্লাহ)

এরা   অভিমানী   ও হতাশ  প্রেমিক  শিয়া। নেতার উপর অভিমান  করেই তারা  নেতার বিরুদ্ধে   কুফরী ফতোয়া জারি করে বসে আছে।

৬। মুগীরিয়া শিয়া: এই চরমপন্থী শাখাটি হলো  মুগীরা ইবনে    সাঈদ    আজারীর    অনুসারী।    এদের    আক্বীদা  নিম্নরূপ: (ক)  আল্লাহ  স্বশরীরী  স্বত্বা।  আল্লাহর আকার একজন  পুরুষের  আকারের   মত।  তাঁর   মাথায়   নূরের টুপি আছে। তাঁর ক্বলব আছে। সেখান থেকেই যাবতীয় হিকমত  উৎসারিত  হয়ে    থাকে।   (খ)  শয়তান  হযরত আবু  বকর  ও  হযরত  ওমরকে  কুফরী  করার  পরামর্শ  দিলে  তাঁরা  শয়তানের  পরামর্শ  অনুযায়ী  কুফরী  করে  বসে।   তখন     শয়তান    এই   বলে   বিদায়   নেয়   ”আমি  তোমাদের  থেকে  পৃথক  হয়ে  গেলাম”।  এই  মুগীরিয়া  শিয়াদের   মতে  হযরত  আবু  বকর   ও  হযরত  ওমরের কুফরী প্রসঙ্গেই নাকি কুরআনের নিম্ন আয়াতটি নাজিল হয়  মাছালুহুম   কামাছালিশ  শাইতন,   ইজ    ক্বলা   লিল  ইনছানিকফুর,    ফালাম্মা   কাফারা   ক্বলা   ইন্নী   বারিউম  মিনকা” অর্থাৎ - ”তাদের উপমা হলো শয়তানের ন্যায় -  যখন   সে   কোন  মানুষকে  বলে   -  তুমি  কুফরী  কর। যখন সে কুফরী করে বসে - তখন শয়তান বলে- আমি তুমা  হতে বিমুখ হলাম”। (গ) হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর পুত্র ইমাম হাসানের প্রপৌত্র মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ হচ্ছেন ভবিষ্যতের প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী। পর্বতমালায় এখনও অবস্থান করছেন।

৭।  জানাহিয়া  শিয়া:  হযরত   আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু এর   ভাই   শহীদ  জাফর  তাইয়ারের  পুত্র     আবদুল্লাহর নাতী - আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়ার অনুসারী এই দল। জাফর   তাইয়ার   রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু   এর   উপাধী   ছিল  ”জুল    জাহানাঈন”।    তারা     এজন্য   তাদের    পরিচিতি হিসেবে   জানাহিয়া   শিয়া      বলে    প্রচার   করে।   এদের আক্বীদা পঞ্চম দলের অনুরূপ: অর্থাৎ আত্মার স্থানান্তরে এরা   বিশ্বাসী।   তারা  বলে   -   ”আল্লাহর  আত্মা  নবীগণ হয়ে   হযরত   আলী   ও   তাঁর   তিন   পুত্রের   মধ্যে   এসে  সমাপ্ত   হয়েছে।   এ  ধারা   পূণরায়  হযরত  আলীর  ভাই জাফর  তাইয়ারের  বংশে  আবদুল্লাহ  ইবনে  মুয়াবিয়ার  মধ্যে স্থান লাভ করেছে। তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, বরং ইস্পাহানের একটি পাহাড়ে জীবিত অবস্থান করছেন”। এই চরমপন্থীরা কিয়ামতকে  অস্বীকার  করে এবং   সব  মৃতজন্তু  ও অন্যান্য  হারাম  বস্তুকে হালাল  বলে বিশ্বাস  করে।     (উল্লেখ্য      -     অকাট্য     দলীল      দ্বারা     প্রমাণিত হারামকে হালাল মনে করা কুফরী)

৮।  বয়ানিয়া  শিয়া:  চরমপন্থী  শিয়াদের  অষ্টম  গ্রুপের  নাম   বয়ানিয়া।   নজদের    বনু   তামীমের   বয়ান    ইবনে ছামআন - এর অনুসারী এই দল। এদের ধারণামতে - ”আল্লাহ  তায়ালা  একজন  মানুষের    আকৃতিধারী  এবং  আল্লাহর  আত্মা  প্রথমে  হযরত   আলীর   মধ্যে,  তারপর তাঁর  অন্য  স্ত্রীর  পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে   হানফিয়ার মধ্যে,  তারপর     তার     পুত্র     আবু      হাশেমের      মধ্যে      প্রবেশ করেছে”।    এরা    মুহাম্মাদ    ইবনে   হানফিয়াকে   ইমাম  মানে      -      ইমাম      হাসান      ও      হোসাইন      রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহুমাকে মানেনা।

৯।        মনসুরিয়া        শিয়া:        আবু        মনসুর        আজালীর  অনুসারীদেরকে  মনসুরিয়া  শিয়া  নামে  অভিহিত   করা  হয়।  এদের   আক্বীদা   হচ্ছে:  ”রিছালাতের  দরজা  বন্ধ  হবে    না।    শরীয়তের    বিধি     বিধান   সবই     উলামা   ও ফক্বিহগণের মনগড়া। বেহেস্ত- দোযখ বলতে কোন বস্তু নেই”।  ইমাম বাকের    রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহুর  পর তাদের ইমাম হচ্ছেন আবু মনসুর।

১০।  গামামিয়া  শিয়া:   এদের   আক্বীদা   হচ্ছে-   আল্লাহ তায়ালা   বসন্তকালে  মেঘ   মালায়  ভর   করে   পৃথিবীতে অবতীর্ণ  হন   এবং   সমগ্র  পৃথিবী  ভ্রমণ     করে   পুনরায় আকাশে আরোহন  করেন।  এ  কারনেই বসন্ত  মৌসুমে পৃথিবী ধনধান্যে, ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে উঠে।

১১।   তাফভিজিয়া   শিয়া:    এদের   আক্বীদা    ও   বিশ্বাস হচ্ছে:    ”আল্লাহ    তায়ালা    হযরত    মুহাম্মাদ    সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লামকে সৃষ্টি   করে তাঁর  হাতে   সৃষ্টির ভার   অর্পন   করেছেন।    তিনি   নিজে    হচ্ছেন   পৃথিবীর  অবশিষ্ট বস্তুরাজীর মহা স্রষ্টা”।

এদের কেউ কেউ আবার হযরত আলীকে পৃথিবীর স্রষ্টা বলে  বিশ্বাস  করে। আবার কেউ   বিশ্বাস    করে -  ”নবী করিম    সাল্লাল্লাহু    আলাইহি    ওয়া    সাল্লাম    ও    হযরত  আলীকে   যৌথভাবে  পৃথিবী  সৃষ্টির  দায়িত্ব   অর্পন  করা হয়েছে।”   এ   কারণেই  তাদেরকে  তাফভিজিয়া    শিয়া  বলা হয়। তাফভিজ অর্থ - নিজের ক্ষমতা অন্যের উপর ন্যাস্ত করা।

১২। খাত্তাবিয়া   শিয়া: চরমপন্থী  শিয়াদের   এই  দলের নেতা  হলো  আবুল   খাত্তাব   আসাদী।   এদের   আক্বীদা  হচ্ছে-

”নবীগণ    হলেন     প্রকৃত    ইমাম     এবং     আবুল    খাত্তাব একজন     নবী।     অন্যান্য      নবীগণ     আবুল     খাত্তাবের  আনুগত্য       করাকে       মানুষের        উপর         ফরয        করে দিয়েছেন”।  আর  এক কদম অগ্রসর  হয়ে এরা  বলে - ”সমস্ত ইমামগণই    খোদা, ইমাম হাসান    - হোসাইনের পুরুষ সন্তানগণ সকলেই আল্লাহর সন্তান ও প্রিয়। ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খোদা। তাদের নেতা আবুল  খাত্তাব হযরত আলী ও ইমাম জাফর সাদেকের চেয়েও উত্তম”।

এরা        এদের        স্বপক্ষীয়        লোকদের        পক্ষে        এবং  বিপক্ষগণের  বিরুদ্ধে  মিথ্যা স্বাক্ষ্য  প্রদানকে  বৈধ  মনে করে।      তাদের      নেতা       নিহত       হওয়ার      পর      এরা  কয়েকগ্রুপে    বিভক্ত     হয়ে     পড়ে।     এক    গ্রুপ    বলে- ”আবুল খাত্তাবের পর মা'মার তাদের ইমাম”। আল্লাহর ইবাদতের ন্যায় তারা  মা'মার - এর ইবাদত শুরু করে দেয়। তাদের মতে - ”দুনিয়ার ধন - সম্পদ ও অন্যান্য নেয়ামতসমূহই বেহেস্ত এবং অমঙ্গল ও মুসিবত সমূহই দোযখ”।  এরা  হারাম  বস্তুকে  হালাল  মনে   করে   এবং ফরয  সমূহ   বর্জন   করে।    তাদের  অন্য  গ্রুপের  দাবি   হলো - আবুল খাত্তাবের হত্যার পর বাজি' নামক ব্যক্তি তাদের    ইমাম।     তাদের      বিশ্বাস:    প্রত্যেক     মুমিনের নিকটই   ওহী  আসে”। তাদের তৃতীয়   গ্রুপের ধারণা -  ”আবুল খাত্তাবের পর তাদের ইমাম ওমর ইবনে বয়ান আজালী”। (আমাদের দেশের কিছু ভন্ড ফকির তাদের অনুসারী)।

১৩।    মা'মারিয়া   শিয়া:   এ  দল  আবুল    খাত্তাবের   পর মা'মারকে     তাদের     নেতা     বলে     বিশ্বাস    করে    এবং শরীয়তের  যাবতীয় আইন  কানুন তার উপর সোপর্দ  - বলে  আক্বীদা পোষণ করে। এরা বলে - ”ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু ছিলেন   নবী -   তারপর  নবী ছিলেন  আবুল  খাত্তাব।  এরপর   তাদের   নেতা   মা'মার হচ্ছেন     শেষ  নবী।  তিনি  যাবতীয়    বিধি  নিষেধ   তুলে দিয়েছেন       এবং       শরীয়তের       বাধ্যবাধকতা       রহিত  করেছেন   ”।   এরা   মূলত:    দ্বাদশ    (ইসনা   আশারিয়া) গ্রুপেরই একটি উপশাখা মাত্র।

১৪।      গোরাবিয়া      শিয়া:      এই      চরমপন্থী      শিয়াদের  নামকরণ হয়েছে ”গোরাব” বা কাক শব্দ থেকে। এদের দৃঢ় বিশ্বাস - ”এক কাক যেমন আরেক কাকের সদৃশ্য, এক মাছি   আর  এক  মাছির সদৃশ্য -   তদ্রুপ শারিরীক গঠনে   হযরত   আলী     রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু     ছিলেন   নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদৃশ্য। আল্লাহ  তায়ালা     হযরত     জিব্রাঈলকে    হযরত    আলীর    নিকট প্রেরণ      করেছিলেন।     শারিরীক     গঠনের        সাদৃশ্যের কারণে জিবরাঈল ভূল করে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর  নিকট রিছালাতের দায়িত্ব অর্পন   করে  ফেলেছেন”।   (নাউযুবিল্লাহ)   এ    কারণেই গোরাবিয়া       শিয়া      সম্প্রদায়       হযরত       জিবরাঈলকে  অভিসম্পাত  (লানত)  দিয়ে   থাকে।  তাদের  এক   কবি বলেন:   ”জিবরাঈল   আমিন    গলদ    করে   রিছালাতকে আলী   হায়দার   থেকে  অন্যত্র  নিয়ে  গেছেন”।   হযরত   গাউসুল  আযম  রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু গুনিয়াতুত ত্বালেবীন গ্রন্থে এদেরকে ইসলামের ইয়াহুদী সম্প্রদায় বলেছেন।

১৫।  জুবাবিয়া  শিয়া:  জুবাব  অর্থ   -  মাছি।   এক  মাছি অন্য   মাছির   সদৃশ।   তারা   বলে   -   ”হযরত   মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু    আলাইহি    ওয়া    সাল্লাম    ছিলেন    আল্লাহ    -  সদৃশ। তবে তিনি নবী ছিলেন”।

আল্লাহ      তাদের     ধবংস     করুক।     জুবাব    বা     মাছির সাদৃশ্যতার উপমা নবী ও আল্লাহর ক্ষেত্রে জুড়ে দেয়ার করণে এই চরমপন্থী    শিয়াদেরকে জুবাবিয়া শিয়া বলা হয়।

১৬।  যাম্মিয়া  শিয়া:  'যাম্মুন'   আরবী  শব্দ।  অর্থ    হলো  বদনাম আরোপ  করা।    এই সম্প্রদায়ের  শিয়াগণ  নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর উপর এই অপবাদ আরোপ করে যে, ”হযরত আলী হচ্ছেন খোদা এবং   তিনি   হযরত  মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি  ওয়া  সাল্লামকে   তাঁর   দিকে   লোকদেরকে   আহবান     করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা না করে নিজের জন্যই, আল্লাহ বলে দাবী করে বসলেন।

তাদের  মধ্যে    সমঝোতা  স্বরূপ   নবী  করিম   সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া   সাল্লাম  এবং   হযরত  আলী  রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উভয়কেই  আল্লাহ বলে স্বীকার  করে নেয়া   হয়। তবে   এক   নম্বর   আর   দুই   নম্বর   নিয়ে   তাদের   মধ্যে  মতভেদ   থেকে  যায়।  তাদের  মধ্যে  কেউ   কেউ   পাক পাঞ্জাতন (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু   আলাইহি ওয়া   সাল্লাম), হযরত আলী, ফাতিমা,  হাসান  ও হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা        আনহুম)        খোদা        বলে        বিশ্বাস        করে।  (নাউযুবিল্লাহ)।

১৭।      ইসনাইনিয়া      শিয়া:        এরা       যাম্মিয়া      গ্রুপের  উপশাখা।  তারা  নবী  করিম  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি    ওয়া সাল্লামকে   যাম্মিয়াদের   তফসিল     মতে    আল্লাহ     বলে আক্বীদা     পোষণ     করে।     তারা     যাম্মিয়াদের     দ্বিতীয়  উপশাখা বলে ইসনাইনিয়া নামে খ্যাত।

১৮।       খামছিয়া       শিয়া:      এরা      যাম্মিয়াদের       তৃতীয় উপশাখা।   এরা   পাক  পাঞ্জাতনকে    ইলাহ   বা   আল্লাহ বলে  স্বীকার    করে।  এ  জন্য  এদের   পৃথক    নামকরণ করা হয়েছে খামছিয়া বা পঞ্চ খোদায় বিশ্বাসী।

১৯।  নাসিরিয়া   শিয়া:  এই   চরমপন্থী   শিয়াদের  অপর নাম আলভী শিয়া। এরা সিরিয়ার হিমস, হলব ও উত্তর সিরিয়ায় বসবাস করে। এদের আক্বীদা হচ্ছে - ”আল্লাহ তায়ালা     হযরত    আলী    ও   তাঁর   বংশধরগণের   মধ্যে  প্রবেশ  করেছেন”।   তবে এরা   আল্লাহ অর্থে আমীরকে রূপক হিসাবে বুঝায়।

২০।  ইসহাকিয়া   শিয়া:   ইসহাক  নামীয়   জনৈক   শিয়া নেতার  অনুসারী  এই দলটি। এরা বলে  - ”এই পৃথিবী অতীতে     কখনও      নবী     থেকে     শূন্য       ছিলনা       এবং ভবিষ্যতেও শূন্য থাকবেনা।    আল্লাহ  -  হযরত  আলীর মধ্যে আছেন”। (কাদিয়ানিরাও একথাই বলে)।

২১। ইলবাইয়া শিয়া:  ইলবা  ইবনে আরওয়া আসাদীর অনুসারীগণকে ইলবাইয়া শিয়া বলা হয়। এদের মতে - ”হযরত    আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু  হলেন  খোদা    এবং  মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উত্তম। মুহাম্মাদ     সাল্লাল্লাহু     আলাইহি     ওয়া     সাল্লাম    হযরত  আলীর            হাতে            বাইয়াত            গ্রহণ            করেছেন”।  (নাউযুবিল্লাহ)।

২২।  রাজজামিয়া শিয়া: এই সম্প্রদায় মুহাম্মাদ  ইবনে  হানফিয়া, তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ - এর পুত্র আলী,  তার পুত্র   আবুল  মনসুর  কে  ইমাম  বলে   মান্য  করে।   এরা ইতিহাসখ্যাত আবু  মুসলিম খোরাসানীকে খোদা    বলে স্বীকার   করে।    হারামকে   হালাল    বলে   স্বীকার    করা   এদের   আক্বীদা।  (আবু  মুসলিম খোরাসানী আব্বাসীয়  হুকুমত প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছিল - লেখক)। 

২৩।   মুকান্নাইয়া    শিয়া:    ইমাম   হোসাইন   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু-  এর   পর  মুকান্নাকে  এরা  খোদা  বলে     স্বীকার করে।

২৪।  ইমামিয়া শিয়া: ”ইমামত”  মতবাদে বিশ্বাসী বলে এদেরকে   ইমামিয়া  শিয়া   বলা   হয়।   এদের  বিশ্বাস  - ”নবুয়াত   ও  রিসালাত”   এর  মধ্যে   হযরত  আলী   নবী  করিম      সাল্লাল্লাহু     আলাইহি     ওয়া      সাল্লামের      সাথে অংশীদার।  এই    ফির্কা  খিলাফতে  বিশ্বাসী    নয়।  এরা বলে   -   ”হযরত  আলী    রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু  নবী   করিম সাল্লাল্লাহু        আলাইহি        ওয়া        সাল্লাম        কর্তৃক       তাঁর উত্তরাধিকারী  নিযুক্ত  হয়েছিলেন  -   কিন্তু   হযরত   আবু  বকর ও হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা খিলাফত বা নির্বাচন পদ্ধতি আবিষ্কার করে জনগণের রায়ে খলিফা হয়ে  যান।  তাদের  মতে ইমামত বা ঐশী    মনোনয়নই ইসলামের        সঠিক         পদ্ধতি        -         খিলাফত           হলো প্রতারণামূলক   নির্বাচন   পদ্ধতি।”  (দেখুন   -  ”মাওলার  অভিষেক”    বইটি)।     এই     ফির্কাটি     পুনরায়     ৩৫     টি উপদলে বিভক্ত। 

August 23, 2017

শিয়া ফির্কার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও আকিদা

প্রথম পর্ব 
============================
শিয়া ফির্কার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও আক্বীদা: 
====== ======================
অধ্যক্ষ এম এ জলিল রহঃ





শিয়া     সম্প্রদায়    -    যারা    হযরত     আলী    কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহু  এর  স্বপক্ষীয়  ও  অনুসারী  বলে  দাবি  করে  এবং  তাঁকে  মহব্বত  করে।  তারা  মূলত:  চার  ফের্কায়  বিভক্ত।
যথা: 

১। প্রথম যুগের আদি শিয়া বা মুখলিসীন শিয়া:
হযরত   আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু   এর  খিলাফতকালের (৩৫-৪০হিজরী)     মুহাজির,     আনসার     এবং     তাঁদের  অনুসারী তাবিয়ীগণ এই দলের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। তাঁরা হযরত আলীর   ন্যায্য  প্রাপ্য   ও মর্যাদার স্বীকৃতি   দাতা ছিলেন।  পক্ষান্তরে   তাঁরা  অন্য   কোন  সাহাবীকে  ছোট করে  দেখানো   কিংবা তাঁদেরকে  গালিগালাজ করা  বা কাফির  মনে  করা  -  ইত্যাদি  দোষ-  ত্রুটি  হতে  সম্পূর্ণ  মুক্ত      ছিলেন।      কুরআনের      ব্যাখ্যায়      তাঁরা      হযরত  আলীকেই   অনুসরণ করতেন। বাইআতুর রিদওয়ানের মধ্যে শরীক চৌদ্দশত সাহাবীর মধ্যে আটশত সাহাবীই সিফফীনের যুদ্ধে হযরত আলীর পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। তন্মধ্যে তিনশত সাহাবী শাহাদত বরণ করেন। অবশ্য কোন   কোন    সাহাবী    উক্ত    যুদ্ধ   থেকে    নিজেদেরকে  দূরত্বে  রেখেছিলেন -   শুধু সাবধানতা অবলম্বন করার    জন্য।    তাঁরা    এসব    ঝামেলায়    নিজেদেরকে    জড়িত  করেননি। এঁদের মধ্যে অন্যতম  ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।

জঙ্গে       জামাল      ও     জঙ্গে     সিফফীনে     হযরত      আলী রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু      ছিলেন   সত্যের   উপর    প্রতিষ্ঠিত। অনেকেই   পরে    হযরত   আলী  রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু  এর  সাথে      যোগদান      না      করার      জন্য     দু:খও       প্রকাশ করেছিলেন।  শিয়া  শব্দটি  কখন  থেকে  প্রচলিত  হয়  -  সে সম্পর্কে শাহ আবদুল আজিজ দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি   তোহফা ইসনা আশারিয়া গ্রন্থে বলেন:    ৩৭ হিজরী সনে শিয়া বা ”শিয়ীয়ানে আলী” শব্দটি প্রচলিত হয়। এই দলের কোন পৃথক মতবাদ বা নিজস্ব আক্বীদা ছিলনা।    তাঁরা    সর্ব   বিষয়ে   হযরত   আলী    রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে অনুসরণ করতেন।

২। তাফলিদিয়া শিয়া:
এই সম্প্রদায়ভূক্ত  শিয়াগন   সমস্ত  সাহাবায়ে  কেরামের উপর হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বেশী ফযিলত বা মর্যাদা   দিতেন  বলে  এই   নামকরণ করা হয়।  কিন্তু তাই বলে অন্য কোন সাহাবীকে গালি দেয়া বা কাফির বলা     কিংবা     তাঁদের    প্রতি    বিদ্বেষ    পোষণ     করা      -  কোনটাই  এঁদের মধ্যে  ছিলনা। এই সম্প্রদায়ের   মধ্যে অন্যতম    উল্লেখযোগ্য    ব্যক্তিত্ব    ছিলেন     আরবী     নাহু বিদ্যার    জনক    আবুল      আসওয়াদ     দোয়ায়লী।    তাঁর সাগরেদ  আবু   সাঈদ  ইয়াহইয়া,  সালেম  ইবনে    আবু   হাফসা     (যিনি  ইমাম  বাকের  রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু  এবং   ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু    থেকে  হাদীস বর্ণনা         করেছেন),       বিখ্যাত       অভিধান       ”ইসলাহুল  মানতিক” প্রণেতা আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক  - প্রমুখ।

পরবর্তীকালের  বিখ্যাত   সূফী  সাধক  আল্লামা   আবদুর রহমান জামী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি এর গ্রন্থাবলীতেও তাফদিলী মতবাদের কিছুটা আভাস পাওয়া  যায়। এই তাফদিলী   সম্প্রদায়ের  প্রকৃত  আত্মপ্রকাশ   ঘটে    প্রথম সম্প্রদায় মুখলিসীন শিয়াদের দুই কি তিন বৎসর পরে অর্থাৎ ৩৯ বা ৪০ হিজরী সনে।

বিশ্বস্ত     বর্ণনামতে      দেখা     যায়      যে,       হযরত     আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু        আনহু      তাঁর       খিলাফত      কালেই      টের  পেয়েছিলেন  যে,  কিছু  কিছু  লোক  তাঁকে  হযরত  আবু  বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু    এর  উপর  মর্যাদা   দিচ্ছেন।    সাথে সাথে তিনি এ আক্বীদা পোষণ করা থেকে বারণ করেন এবং বলেন  -  ”যদি আমি কারও মুখে  একথা শুনি যে, হযরত    আবু  বকর  ও  হযরত  ওমরের  উপর   আমাকে মর্যাদা   দেওয়া    হচ্ছে     -    তাহলে   আমি    তাকে    আশি দোররা   মারবো”।   কোন  কোন  বর্ণনায়  দশ  দোররার কথা উল্লেখ আছে।

৩। ছাব্বাইয়া বা তাবাররাইয়া শিয়া ফির্কা:
এই সম্প্রদায়ভূক্ত শিয়াগণ সালমান ফারসী, আবু   যার  গিফারী,   মিকদাদ,  আম্মার ইবনে ইয়াসির  রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম      -      প্রমুখ        সাহাবীগণ      ব্যতীত      অন্য       সব সাহাবীগণকেই  গালিগালাজ   দিয়ে  থাকে।  এমনকি  -   তারা     উক্ত     মুষ্টিমেয়     কয়েকজন      ছাড়া     বাকি     সব  সাহাবীকেই কাফির ও মুনাফিক বলে বিশ্বাস করে এবং গালিগালাজ  করে    থাকে।  তারা   এ   কথাও  বলে   যে, বিদায়ী     হজ্জ্ব     সমাপন      করে    নবী     করিম    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া   সাল্লাম মদীনা শরীফে প্রত্যাবর্তনকালে পথিমধ্যে      ”গাদীরে      খুম”     নামক      স্থানে     সাহাবায়ে কিরামকে    একত্রিত    করে    হযরত    আলী    রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু  এর   সম্পর্কে বলেছিলেন  -  ”আমি  যার মাওলা, আলী ও তার মাওলা”।

তারা মনে  করে-  নবী  করিম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি   ওয়া সাল্লাম     এই   ভাষণের    দ্বারা    হযরত   আলীকেই     তাঁর পরবর্তী      খলিফা      নিয়োগ      করে      গেছেন।      সুতরাং  পরবর্তীকালে   ঐ   সময়ে   উপস্থিত   সাহাবীগণ   হুযুরের  ইন্তিকালের    পর    নাকি    প্রতিশ্রুতি   ভঙ্গ     করে    হযরত আলীকে  খলিফা   নির্বাচিত  না  করে   বরং  হযরত  আবু বকর সিদ্দীকের হাতে বাইয়াত করে   সকলেই মুরতাদ শ্রেণীর     কাফির     হয়ে     গেছেন     (নাউযুবিল্লাহ)।     এই  সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয় হযরত আলীর খিলাফতকালেই। ইয়েমেনের সানা  প্রদেশবাসী    কুখ্যাত ইহুদি  মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবার  কুমন্ত্রণা ও উস্কানীতে এই বদ আক্বীদার সৃষ্টি  হয়। এ প্রসঙ্গে সোয়াইদ  নামক জনৈক ব্যক্তি হযরত আলীর খিদমতে এসে বললেন যে,  আমি একটি সম্প্রদায়কে  দেখেছি - ”তারা হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে গালমন্দ   করছে।    আপনি    হয়তো     অন্তরে   অন্তরে   এ  ধারণা      পোষণ     করেন     বলেই     তারা     এই      প্রকাশ্য গালমন্দের দু:সাহস   দেখাচ্ছে”।  একথা শুনেই হযরত  আলী    রাদ্বিয়াল্লাহু    আনহু    লজ্জায়     নাউযুবিল্লাহ     বলে আমাকে  নিয়ে  কুফার  মসজিদে  প্রবেশ  করে  সমবেত  মুসল্লীদের উদ্দেশ্য এক সারগর্ভ ভাষণে বললেন: ”কত হতভাগা   ঐ  সব  লোক  -   যারা  নবী   করিম   সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর উযির ও সাহাবী, কুরাইশ  সর্দার  ও মুসলমানদের পিতৃতুল্য দুই সাহাবী    সম্পর্কে কটুক্তি  করছে। আমি এসব লোকের সংস্পর্শেও নেই।  তাঁরা     উভয়ে     আজীবন     রাসুলে     পাকের     নিত্যসঙ্গী  ছিলেন।  ইনতিকালের  সময়  পর্যন্ত  তিনি  তাঁদের  প্রতি  সন্তুষ্ট      ছিলেন।      ভালবাসা,      বিশ্বস্ততা      ও        আল্লাহর নির্দেশাবলী     প্রতিষ্ঠায়   তাঁদের    নিরলস   প্রচেষ্টা   দিয়ে তাঁরা নবী  করিম সাল্লাল্লাহু   আলাইহি  ওয়া  সাল্লাম কে  সাহচর্য দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রতি ভালবাসাই ইবাদত  তুল্য    এবং   তাঁদের  প্রতি   বিদ্বেষ  পোষণ  করাই  ঈমান থেকে খারিজ হওয়ার সমতুল্য।”

এ   কথা   বলেই   তিনি   আবদুল্লাহ   ইবনে   সাবা   -   এর  বিরুদ্ধে  সৈন্য   প্রেরণ  করেন।   আবদুল্লাহ   ইবনে  সাবা ইরাকের    মাদায়েনে    গিয়ে    আত্মগোপন    করে।    এই  ছাব্বাইয়া    গোত্রের    শিয়ারা    প্রথম    শ্রেণীর    শিয়াদের  থেকে   নিজেদেরকে  পৃথক   করার   উদ্দেশ্যে   প্রতারণা  করে    নিজেদের    নাম    রাখে    ”আহলে    সুন্নাত    ওয়াল  জামাত”। এটা ছিল তাদের আত্মরক্ষার  ধোঁকাবাজী  ও প্রতারণামূলক কাজ। আজকালও দেখা  যায়  যে, কোন সম্প্রদায়   ওহাবী   বা    দেওবন্দী   অথবা   মওদুদী    বলে পরিচিত হয়ে গেলে তারা নিজেদেরকে ”আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত” বলে আত্মপরিচয় দেয় এবং ঐ নামে প্রতারণামূলক প্যারালাল সংগঠনও দাঁড় করে   ফেলে।  এটা    তৃতীয়    শ্রেণীর    শিয়াদের    মতই    প্রতারণামূলক  কাজ। আমাদের দেশের চুনকুটির সদর  উদ্দীন চিশতী ও তার অনুসারীরা ছাব্বাইয়া শিয়াদের অনুসারী। এরা খুবই জঘন্য মুনাফিক।

৪। ঘালী বা চরমপন্থী শিয়া:
এই      ফির্কার      শিয়াদের     উদ্ভব      হয়        হযরত     আলী রাদ্বিয়াল্লাহু     আনহু   এর    খিলাফতকালেই।   ইহুদি   চর আবদুল্লাহ   ইবনে  সাবা’র   ইঙ্গিতেই  এই   শাখার   সৃষ্টি   হয়। এই চরমপন্থী শিয়াদের আক্বীদা ও বিশ্বাস হলো - ”হযরত      আলী       -ই-      খোদা”     (নাউযুবিল্লাহ)।     এই  মতবাদের   প্রধান   প্রবক্তা   ছিল   ইবনে    আবিল    হদিস  নামীয় জনৈক কবি।  এই  আক্বীদাপন্থীর পরিচয়  পেলে হযরত  আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু    সাথে   সাথেই  তাকে কতল   করে   ফেলতেন।   এই  শেষোক্ত  ফির্কার    লোক যদিও   পূর্বের  তিনটি  দলের  তুলনায়   কম  ছিল  -   তবু  তারা    পরবর্তীকালে     চব্বিশটি     শ্রেণীতে   বিভক্ত   হয়ে পড়ে। (সূত্র: তোহফা ইসনা   আশারিয়া - শাহ  আবদুল আজিজ) 

ফির্কা     সৃষ্টির   ভবিষ্যৎদ্বানী ও ফির্কা সৃষ্টির ইতি কথা

নাহমাদুহু ওয়া নুছাল্লী আলা রাছুলিহিল কারীম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

শিয়া পরিচিতি
================================
ফির্কা     সৃষ্টির   ভবিষ্যৎদ্বানী:    (হাদীস)    -   নবী     করিম সাল্লাল্লাহু   আলাইহি   ওয়া   সাল্লাম   ইরশাদ    করেছেন-  ”আমার  উম্মত  অচিরেই তিয়াত্তর  ফির্কায়   বিভক্ত হয়ে যাবে - তন্মধ্যে একটি ছাড়া বাকী বাহাত্তরটি জাহান্নামী হবে”। উক্ত বাহাত্তরের মধ্যে শিয়া ফির্কা একটি। শিয়া ফির্কা পূন: ৬৩ টি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

ফির্কা সৃষ্টির ইতিকথা
================================
ভূমিকা:   ইসলামে  বিভিন্ন    ফির্কার  সৃষ্টি  হয়  খিলাফতে রাশেদা        যুগের        শেষের         দিকে।         ত্রিশ         বৎসর খিলাফতকালের মধ্যে প্রথম  পঁচিশ বৎসর পর্যন্ত  কোন ফির্কার    অস্তিত্ব    ছিলনা।     হযরত   ওসমান   রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু      শহীদ    হওয়ার     সাথে    সাথেই    সলামী    রাষ্টে মুসলমানদের মধ্যে ভূল বুঝাবুঝি ওঅনৈক্য মাথা চাড়া দিয়ে উঠে।  হযরত ওসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর  ১২ বৎসর খিলাফতের   শেষ ছয় বৎসরে  জনৈক  ইয়াহুদী   গুপ্তচর   মুসলমান    সেজে   হযরত    ওসমান   রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু   এর  খিলাফতের  বিরুদ্ধে  লোকদেরকে   উস্কানী দিতে  থাকে।   তার নাম  আবদুল্লাহ ইবনে    সাবা। তার দেশ   ইয়েমেন।  সানা    শহরে   ছিল  তার  আবাসভূমি।   ইসলামী   রাষ্ট্র   তখন    আরব     ভূখন্ড    ছেড়ে   আফ্রিকা,  ইউরোপের    সাইপ্রাস,     এশিয়া     মহাদেশের    পারশ্য,  এশিয়া   মাইনর   ও   চীন     সীমান্ত   পর্যন্ত     এবং    দক্ষিন   এশিয়ায়  বর্তমান  পাকিস্তান   সীমান্ত পর্যন্ত  বিস্তৃত  ছিল। আরবের  চেয়ে অনারব মুসলমানের সংখ্যা ছিল বেশী। আবদুল্লাহ  ইবনে সাবা মিশর, ইয়েমেন, কুফা,   বসরা, খোরাসান-    প্রভৃতি  অঞ্চলে ব্যাপক সফর করে  বক্তৃতা ও    বিবৃতির   মাধ্যমে   হযরত     ওসমানের     খিলাফতের বিরুদ্ধে  লোকদেরকে উত্তেজিত করে তোলে। শুরু হয়  ভূল     বুঝাবুঝির।     মাথা     চাড়া     দিয়ে     উঠতে     থাকে  বিদ্রোহ।    এভাবে   মুনাফিক    আবদুল্লাহ   ইবনে   সাবার প্রথম       পরিকল্পনা       সফল       হলো।       দুর্বল       চিত্তের  মুসলমানদের      মধ্যে     বিচ্ছিন্নতা     সৃষ্টির     প্রথম     বীজ  এভাবেই     বপন    করতে    সক্ষম      হয়েছিলো     ইয়াহুদী মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা। কিন্তু সে রইলো ধরা- ছোঁয়ার   বাইরে।    যেমনটি     ঘটছে   বর্তমানে     -   ইহুদি  নাসারা   ষড়যন্ত্রের  বেলায়।  তারা   মুসলমানদের   মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ে।

হযরত ওসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাহাদাতের পর খলিফা  নিযুক্ত  হন    হযরত     আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু। হযরত  আলী   (কাররামাল্লাহু  ওয়াজহাহু)  -এর   ক্ষমতা সুসংহত   হওয়ার    পূর্বেই    হযরত   ওসমান   রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের বিচার অনুষ্ঠানের দাবী  তোলা হয় এবং উক্ত বিচার হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি আনুগত্য স্বীকারের পূর্বশর্ত হিসাবে আরোপ করা হয়।  আবদুল্লাহ       ইবনে    সাবা    এ     দাবীর    পেছনে      ইন্দন জোগাতে   শুরু  করলো।  কিন্তু   প্রকাশ্যভাবে   মুনাফিক্বী চাল    এঁটে   সে    হযরত    আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু   এর আস্থাভাজন   হওয়ার    চেষ্টা     করলো।   এঅবস্থায়    ঘটে  গেলো   দু:খজনক   দুটি   ঘটনা।   একটি   হলো   -   জঙ্গে  জামাল    বা উষ্ট্রের   যুদ্ধ। দ্বিতীয়টি হলো জঙ্গে সিফফিন বা সিফফীনের যুদ্ধ।  প্রথমটির নেতৃত্ব দেন মা আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এবং  দ্বিতীয়টির নেতৃত্ব  দেন হযরত মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। এই দুই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই   বাতিল ফির্কার সূচনা  হলো।   একটির   নাম ”শিয়া ফির্কা”; দ্বিতীয়টির নাম   ”খারিজী   ফির্কা”।  শিয়া  ফির্কা হলো   হযরত  আলীর  পক্ষে   এবং   খারিজীরা  বিপক্ষে। তারা  এমন    সব  জঘন্য   আক্বীদার  সৃষ্টি   করলো-  যার কোন   ভিত্তি   ইসলামে   খুঁজে   পাওয়া   যায়না।   খারিজী ফির্কার     প্রথম     প্রতারণামূলক     শ্লোগান     ছিল     পবিত্র  কোরআনের     একটি    পবিত্র     বাণী    ”ইনিল    হুকমুইল্লা লিল্লাহ”    অর্থাৎ     আল্লাহর     হুকুমত     ছাড়া     অন্যকোন হুকুমত আমরা মানিনা”।

আল্লাহর   কালামের     মনগড়া   ব্যাখ্যা   করে    খারিজীরা হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকে অস্বীকার করে   বসলো।  এই  খারিজী     দল   যুগে   যুগে  ইসলামী রাষ্ট্রে   বহু    ফিতনা   সৃষ্টি   করেছে।    এই    দলেই   পয়দা হয়েছে   ইবনে   তাইমিয়া   ও   মুহাম্মাদ   ইবনে   আবদুল  ওহাব    নজদী     (শামী,    তারিখে    নজদ     ও     হিজায)।  বর্তমানকালে  আবুল  আ'লা    মউদুদীকেও   নব্যখারিজী ফির্কা  বলে অভিহিত করেছেন দেওবন্দী উলামাগনসহ সর্বস্তরের উলামা মাশায়িখগণ। বিস্তারিত বিবরণ শর্ষিনা থেকে   প্রকাশিত   ”মউদুদী   জামাতের  স্বরূপ”  (১৯৬৬ ইং) পুস্তকে দেখা যেতে পারে।

শিয়া     ফির্কা     প্রথমদিকে      কেবলমাত্র     হযরত      আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর স্বপক্ষের  লোকদেরকেই বলা হত। তাঁদেরকে  বলা    হতো  শিয়া  মুখলিসীন।  এদের  মধ্যে সাহাবায়ে  কেরামগণও   ছিলেন।  তাঁদের   কোন   পৃথক আক্বীদা  ছিলনা।  পরবর্তীতে হযরত   আলী  রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর   যামানাতেই  শিয়াদের  আরেকটি  শাখার   সৃষ্টি হলো। এদেরকে বলা হতো তাফলিদিয়া শিয়া বা অন্য সাহাবীগণের উপর হযরত আলী রদ্বিল্লাহু আনহু শ্রেষ্ঠত্ব আরোপকারী    শিয়া।  এরপর  সৃষ্টি  হলো  তৃতীয়  শিয়া   ফির্কা। এদের নাম হলো ”ছাব্বাইয়া” ও ”তাবাররাইয়া” -    যারা অন্য  সাহাবীগণকে গালিগালাজ  করতো। এই দলের  নেতাসেজে  বসলো  ইহুদি  মুনাফিক্ব  আবদুল্লাহ  ইবনে সাবা।   এরপর সৃষ্টি হলো শিয়াদের  চতুর্থ ফির্কা ”ঘালী শিয়া” বা চরম পন্থী শিয়া।

এই    ঘালী    বা    চরমপন্থী      শিয়া     পরবর্তীতে    ৬৩    টি উপ-শাখায়   বিভক্ত   হয়েছে।   এদের   মধ্যে   ইমামিয়া,  ইসমাঈলীয়া, ইসনা আশারিয়া ও কারামাতা শিয়াগণই বেশী পরিচিত ও জঘন্য আক্বীদায় বিশ্বাসী।

(সূত্রঃ          আল-মিনহাতুল          ইলাহিয়া          -          তালখিছু  তারজামাতুত    তুহফাতিল    ইসনা    আশারিয়া    -    কৃত,  আল্লামা    সাইয়্যিদ    মাহমুদ    শিকরী    ইবনে    সাইয়্যিদ  আবদুল্লাহ  হুসাইনী  আলূসী  বাগদাদী  ইবনে  সাইয়্যিদ  মাহমুদ   আলূসী  বাগদাদী,   প্রণেতা    -তাফসীরে  রুহুল মা'আনী।    আল-    মিনহাতুল    ইলাহিয়া    আরবী    গ্রন্থটি  অবলম্বন করেই শিয়া  পরিচিতি রচনাকরা হলো।  (মূল কিতাব হলো ”তোহফায়ে ইসনা আশারিয়া”)।


August 14, 2017

এপস শিয়া পরিচিতি

শিয়া পরিচিতিঃ নতুন এপ
=============================
আব্দুল বাতেন মিয়াজী

আলহামদুলিল্লাহ্‌, এই মাত্র রিলিজ করলাম বর্তমান জামানার ব্যাপক আলোচিত ফের্কা শিয়াবাদের পরিচিতির উপর লিখিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি বইএর এপ। কিতাবটি লিখেছেন ইমামে আহলে সুন্নাত, মুফতীয়ে আজম বাংলাদেশ, অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেয আব্দুল জলিল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।
টেক্সট কম্পোজ করে আমাকে সহায়তা করেছেন আমাদের এক সুন্নি ভাই, মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের মাহী। মোবাইল দিয়ে খুব কষ্ট করে উনি পুরো কিতাবটি টাইপ করে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ পাক আমাদের এই খেদমত কবুল করুন। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগ্রই আসছে হুযুরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের এপ, "কালেমার হাক্বিকত"। সেটির টেক্সট কম্পোজ করে দিয়েছেন আমাদের আরেক উদ্যমী সৈনিক মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
নিচের লিংক থেকে এপটি ইন্সটল করতে পারবেন। দয়া করে পোষ্টটি কপি পেস্ট করে আপনাদের নিজ নিজ টাইমলাইনে বেশি বেশি করে রি-পোষ্ট করুন। যত বেশি প্রচার হবে, তত বেশি আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে আর আমাদের এপগুলো সার্চ ইঞ্জিনে উপরে থাকবে।

এপস লিঙ্কঃ      📲.  ইনস্টল

August 05, 2017

হযরত আলী রঃ ও মুয়াবীয়া রঃ এর মতানৈক্য ইজতেহাদী

আসসালামু আলাইকুম
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা ইদানিং দেখা যাচ্ছে শিয়ারা সাধারণ সুন্নীমনাদের পিছনে যেভাবে লেগেছে, ঈমান বাচাঁনো খুবই কষ্টকর হয়ে পরেছে।
এখন আপনাদের নিকট যেই বইটি শেয়ার করতে যাচ্ছি তা হলো আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ট্রাস্ট কতৃক প্রকাশিত মাসিক তরজুমানের জমাদিউল আউয়াল 1428 হিজরী, 2007 সনের মে-জুন মাসের তরজুমানের 11 টি পৃষ্টা
ওস্তাজুল ওলামা হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ অছিউর রহমান আল কাদেরী হুজুর
যেখানে একটি বিষয় এনেছেন হযরত আলী রঃ ও আমীরে মুয়াবীয়া রঃ মতানৈক্য ও ইজতেহাদী ডাউনলোড

August 03, 2017

শিয়াবাদ থেকে সাবধান হওয়ার আহবান ওলামায়ে আহলে সুন্নাতের

আসসালামু আলাইকুম
বর্তমান সময়ে ইসলামের নামধারী অনেক দল বাহির হয়েছে, কিছু দল আছে নাম বদল করে বিভিন্ন ভন্ড পথভ্রষ্ট আকিদার প্রচার করছে, তার মাঝে অন্যতম একটি মতবাদ শিয়াবাদ যারা সরাসরি সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওনাদের সম্পর্কে ভ্রন্ত মনগড়া কথা বলে জঘন্ন ভাবে বেয়াদবী করছে ।
টাকার বিনিময়ে ইমান বিক্রি বন্ধ করুন ৷
যারা টাকা বিলাচ্ছে তারা সুন্নিয়তের কেউ নয় ৷
আহলে বায়তকে ভালোবাসার অর্থ এই নয় যে,সাহাবায়ে কিরামকে গালিগালাজ করতে হবে ৷ অতএব সতর্ক হোন ৷
কাজেই এইসব ভন্ড  পথভ্রষ্ট শিয়াদের থেকে সাবধান হওয়ার আহবান ওলামায়ে আহলে সুন্নাত মাওলানা সৈয়দ আবু নওশাদ নঈমী

April 18, 2017

সাহাবীদের গালি দিলে ঈমান থাকবেনা

⭐সাহাবীদের গালি দিলে ঈমান থাকবেনা⭐
▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶◀◀◀◀◀◀◀◀◀◀◀
↘আল্লাহ তাআলা কোরআন শরীফে বলেন-
رضي اللّٰه عنهم ورضوا عنه
আল্লাহ তাদের উপর রাজী হলেন,তারাও আল্লাহর উপরে রাজী হলেন।
সুত্র:-আল-বায়্যিনা,৯৮:৮;
বুঝা গেল সাহবীদের উপর আল্লাহ রাজী, আর সাহাবীরা আল্লাহর উপরে রাজী।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের কিছু ভাই হযরত আলী (রা) ও আমিরে মোআবিয়া (রা) এর মধ্যকার ইজতিহাদী মতবেদকে কেন্দ্র করে আমিরে মোআবিয়া (রা) কে গালিগালাজ করে, যা সত্যিই দুঃখজনক।
অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
↘ আমার সাহাবীদের মতবেদ রহমত স্বরুপ।
আফসোস, সাহাবী বানালেন নবিজী আর হিসেব নিচ্ছি আমরা!!!
এজন্য আল্লাহর নবী
বলেছেন-
لا تسُبّوا أصحابي،فلو أنّ أحدكم انفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مدّ أحدهم،ولا نصيفه
আমার সাহাবাদেরকে গালি দিয়োনা।যদি তোমাদের মধ্য থেকে কেউ উহুদ পাহাড় বরাবর স্বর্ণ ব্যায় করে দাও তবুও তাদের কোন একজনের সের বা তার অর্ধেক বরাবর পৌছতে পারবেনা।
সুত্র:- সহীহ বুখারী-কিতাুব ফাদায়েলীস সাহাবা,হাদীস নং ৩৪৭০;
মুসলিম-কিতাবু ফাদায়েলীস সাহাবা,হাদীস নং ২৫৪০;
তিরমিযি-কিতাবুল মানাকেব,হাদীস নং ৩৮৬১;
আবু দাউদ-কিতাবুস সুন্নাহ,হাদীস নং ৪৬৫৮;
↘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لا تمسُّ النار مسلما رآني او ورأي من رآني
সে মুসলমানকে জাহান্নামের আগুন কখনো স্পর্শ করবেনা যিনি আমাকে দেখেছেন অথবা আমার দ্রষ্টাদের (সাহাবীদের) দেখেছেন।
সুত্র:-তিরমিযি -কিতাবুল মানাকিব,হাদীস নং ৩৮৫৮;
বুখারীর-তারিখুল কাবীর, হাদীস নং ৩০৮২;
কিন্তু দুঃকজনক বিষয় হলো আজকে আমাদের কিছু ভাইয়েরা সাহাবী ইজতিহাদী বিষয়কে উপলব্দি না করে তাদের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই বলছে-
অথচ
↘আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
اختلاف أصحابي لكم رحمة
আমার সাহাবীদের মতবেদও তোমাদের জন্য রহমত স্বরুপ।
সুত্র:-বায়হাকী-আল মাদখাল আলাস সুনানিল কুবরা ১/১৬২,হাদীস নং ১৫২;
আল কুযায়ী-মসনাদুশ শিহাব ২/২৭৫,হাদীস নং ১৩৪৬;
ইবনে আব্দিল বার-আত তামহিদ ৪/২৬৩;
খতিবে বাগদাদী-আল কিফায়া ফি ইলমির রাওয়াইয়্যাহ ১/৪৮;
দায়লমী-মুসনাদুল ফিরদাউস ৪/১৬০, হাদীস নং ৬৪৯৭;
আর যারা এরপরও সাহাবাদের গালি দেয় গাদের সম্পর্কে
↘নবীজি বলেছেন-
اذا رأيتم الّذين يسبُّوا أصحابي فقولوا لعنةُ اللّٰه علي شرِّكم وفي رواية فلعنوهم
যখন তোমরা সেই লোকদের দেখবে যারা আমার সাহাবায়ে কিরামকে ভালমন্দ বলছে,তখন তোমরা বল,তোমাদের মন্দের দরুন তোমাদের উপর আল্লাহর লানত হোক।অন্য বর্ণনায় এসেছে তাদের লানত করিও।
সুত্র:-তিরমিযি-কিতাবুল মানাকিব,হাদীস নং ৩৮৬৬;
আহমদ বিন হান্বল-ফাদায়েস সাহাবা, হাদীস নং ৬০৬;
তাবরানী -মুজামুল আওসাত ৮/১৯০-১৯১,হাদীস নং ৮৩৬৬;
↘হাদীস শরীফে নবিজী আরো বলেছেন-
يجيئُ في آخر الزّمان قومٌ يسبّون أصحابي فان مرضوافلا تعودهم،وإن ماتوا فلا تشهدوهم،ولا تناكحوهم،ولاتوارثوهم،ولا تسلموا عليهم،ولا تصلُّوا
عليهم
শেষ জামানায় এমন এক সম্প্রদায় আসবে,যারা আমার সাহাবাদের ভালমন্দ বলবে,এমতাবস্হায় (এসব লোক) যদি মারা যায় তাদের জানাজায় অংশগ্রহন করিওনা এবং তাদের সাথে বিবাহ শাদী করিওনা।তাদের ওয়ারীশ বানিওনা,তাদেরকে সালাম দিবেনা এবং তাদেরকে দোয়াও করবেনা।
সুত্র:-খতীবে বাগদাদীর-তারিখে বাগদাদ ৮/১৪৩,হাদীস নং ৪২৪০;
তাই নবিজী আরো বলেছেন-
তোমরা আমার সাহাবাদের মন্দ বলিওনা,কারন-
فلمقام أحدهم ساعةً،خيرٌمن عمل أحدكم عمره
তাঁদের আমলের এক মুহুর্ত তোমাদের সারা জীবনের আমল অপেক্ষা উত্তম।
সুত্র:-ইবনে মাজাহ-মুকাদ্দামাহ, হাদীস নং ১৬২;
ইবনে আবি শয়বাহ-মুসান্নাফ,হাদী নং ৩২৪১৫;
শিক্ষনীয়:-সাহাবীদের ইজতিহাদী মতবেদ সমুহে উম্মতের চুপ থাকাই শ্রেয়।
অন্যথায় সহাবীদের মন্দ বলার কারনে সাথে সাথে বেঈমান হয়ে যাবে।
আল্লাহ পাক সকলকে বুঝার তওফিক দান করুক আমিন
ফেইসবুকে আমি

September 19, 2016

শিয়াদের জঘন্য আক্বিদা সমূহ

শিয়াগণ যদিও রাজনৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ; কিন্তু পরবর্তীকালে তারা ধর্মীয় ক্ষেত্রে কতিপয় মতবাদ তৈরী করেছে।
যেগুলোর সাথে সুন্নী মতবাদ সমূহ সাংঘর্ষিক ।
তা নিম্নরূপ:
১. শিয়ারা কালেমায়ে তাইয়্যেবা لا اله الا الله محمد رسول الله এর সাথে و على خليفة الله বৃদ্ধি করে থাকে, (শিয়া–সুন্নী ইখতেলাফ , পৃ:১৬ এবং মুসলিম সংস্কৃতির ইতিহাস, পৃ:৩২
.
২. শিয়াদের মতে ,ইমামত ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত ।
.
৩.শিয়াদের মতে,ইমামত হযরত মুহাম্মদ এর বংশধরদের জন্মগত অধিকার ।
যেহেতু তার কোন যুবক পুত্র দিলো না, সেহেতু হযরত আলী ও হযরত ফাতেমার বংশধরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ।
.
৪. মহান বীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ইন্তেকালের পর যারা খলিফা হয়েছিলেন তারা হযরত আলীকে ন্যায় সংগত অধিকার হতে বন্ঞ্চিত রেখেছেন এবং তারা জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারী ছিলেন।
ফলে তাঁরা কাফির ও মুরতাদ হয়ে গেছেন । ( নাউজুবিল্লাহ) ( শিয়া-সুন্নী ইখতেলাফ, পৃ:১২)
.
৫. শিয়া মতানুসারে ইমাম জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচিত হতে পারে না।
কারণ জনগনের নির্বাচিত ক্রটিযুক্ত ।
তাই ইমাম আল্লাহ তা,য়ালা কর্তৃক মনোনীত হবেন এবং তিনি হবেন নিষ্পাপ ।
তাকে জনগণ কর্তৃক অপসারণ করা যাবে না ।
.
৬. শিয়াগণ মনে করে , মানুষ ও আল্লাহর মাঝে মধ্যস্থতাকারী হলেন ইমাম ।
তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত ।
.
৭.ইমাম শুধু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতাই নন পার্থিব নেতাও বটে ।
চরমপন্থী শিয়ারা ইমামকে আল্লাহ পাকের প্রতিনিধি হিসেবে মনে করে ।
.
৮. শিয়াগণ হযরত আবু বকর, হযরত ওমর ও হযরত ওসমান (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু)-ওনাদের খিলাফতকে অস্বীকার করে।
এমনকি তারা উমাইয়া ও আব্বাসীয় খেলাফতকে অস্বীকার করে।
হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ) ওনাকে বঞ্চিত করায় তারা যালিম , মুনাফিক ও জাহান্নামী-(নাউজুবিল্লাহ) ।
(ইসলাম আওর খামেনী মাযহাব, পৃ:৪৮)
.
৯.শিয়াদের আক্বিদা হল, হযরত আলী রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে রূহানী শক্তি প্রাপ্ত এবং হযরত আলীর শরীরে আল্লাহর পবিত্র গৌরবের রশ্মি নিপতিত হয়েছিল।
হযরত আলী রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওনার বংশধরদের মধ্যেও এই খোদায়ী নূর সংক্রমিত হয়েছে ।
সুতরাং তারা পাপ বা ভুল করতে পারেন না।
.
১০. শিয়াদের মতে,ইমাম অবিভাজ্য এবং একই সময়ে দুইজন ইমাম এর যুগপৎ আর্বিভাব অসম্ভব।
.
১১. শিয়াগণ হযরত আলীর মুহাব্বতে অতিরঞ্জন করে বলত যে, প্রকৃতপক্ষে ওহী নাযিল হয়েছিল হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) ,র প্রতি ; কিন্তু জিব্রাঈল (আ:) ভুল করে হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওনার নিকট নিয়ে গেছেন ।
.
১২. শিয়ারা কোরআনের চিরন্তনতা ও অবিনশ্বর স্বীকার করে না।
তারা বলে কোরআন সৃষ্ট ও নশ্বর।
.
১৩. দ্বাদশ পন্থী শিয়াদের মতে, তাদের দ্বাদশ পন্থী ইমাম মুহাম্মাদ আল মুন্তাযির কিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদী হিসেবে আবির্ভূত হবেন ।
আবার এক শ্রেণীর শিয়ার বিশ্বাস হচ্ছে, হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)'র পুত্র মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ আল্লাহর হুকুমে আত্মগোপন করে আছেন , এক সময় তিনি ইমাম মাহদী রূপে পুনরায় আগমন করবেন।
.
১৪. শিয়াদের মতে , পবিত্র কোরআন ও হাদিস ইসলামী জ্ঞানের উৎস ।
কাজেই ইজমা ও কিয়াসের কোন প্রয়োজন নেই।
.
১৫. শিয়াগণ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস , ইবনে ওমর , হযরত আয়েশা (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু) ওনাদের হাদিস মানে না।
কারণ তারা নাকি হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)ওনার ব্যাপারে হুজুর ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওনার অন্তিম উপদেশ গোপন করেছেন ।
.
১৬. শিয়াদের একটি বিরাট অংশ বিশেষ করে ইসমাইলিয়ারা বিশ্বাস করে যে,ইমাম ইসমাঈল আখেরী নবী । ( মুসলিম সংস্কৃতি ইতিহাস , পৃ:২৩৩)
.
১৭. কোরআন শরীফে তাহরীফ করা হয়েছে ।
যেমন:– কোরআনের মোট আয়াত ১৭,০০০ (সতর হাজার ), তা থেকে হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু) ওনার খিলাফত ও আহলে বায়তে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কিত ১০,৩৩৪ (দশ হাজার তিনশত চৌত্রিশ) আয়াত বাদ দেয়া হয়েছে ।
৬,৬৬৬ (ছয় হাজার ছয়শত ছেষট্টি ) আয়াত কেই শুধু কোরআন মান্যকারী মিথ্যাবাদী ।
নাউজুবিল্লাহ (ইরানী ইনকিলাব,পৃ:২৫৯ এবং ইসলাম আওর খামেনী মাযহাব,পৃ:৫৪,৫৫)
.
১৮.মোতা,বা সাময়িক বিয়ে বৈধ; বরং সওয়াবের কাজ ।
অর্থাৎ একজন মুসলমান পুরুষ ও নারী অর্থের বিনিময়ে কিছুক্ষণ যৌনসঙ্গম করতে পারবে ।
(ইসলাম ও খামেনী মাযহাব, পৃ:৪৩৮)
.
১৯. 'তাকীয়া' অর্থাৎ আসল বিষয়কে গোপন করে , মুখে ভিন্ন ধরনের মত প্রকাশ করা জায়েয এবং "তা বার রা" অর্থাৎ শিয়া নয় এমন সব মুসলমানদের মনে প্রাণে ঘৃণা করা । (ইসলাম ও খামেনী মাযহাব পৃ :৪৩৭,৪৩৮
.
.ফেইসবুকে আমি
বি দ্রঃ সকল সুন্নী মুসলমান ভাইদের ঈমান হেফাজতের লক্ষ্যে
#শেয়ার করার অনুরোধ রইল