হেড লাইন

★রসূলুল্লাহ্ ص صلي الله عليه وسلم এরশাদ করেনঃ তোমরা আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।
Showing posts with label নবী নুর. Show all posts
Showing posts with label নবী নুর. Show all posts

September 13, 2017

আমাদের নবী দঃ ওনার ছায়া ছিলো না

আমাদের নবী রসূলে আরবী সকল নবীর সেরা নবী উভয় জগতের নবী কাউছারের মালিক নবী হায়াতুন্নবী উম্মতের কান্ডারী নবী  হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার যে কোন ছায়া মোবারক ছিল না--
Subhan Allah kiya nam hai name Muhammad S:


সুবহানআল্লাহ .নিম্নে তার দলীল পেশ করা হলো----........
১. মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি জামিউল ওসায়েল ফি শরহে শামায়েল কিতাবের ২১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক ছিলনা।
যেমন হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে-
وفى حديث ابن عباس قال لم يكن لرسول الله صلى الله عليه وسلم ظل ولم يقم مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوء الشمس ولم يقم مع سراج قط الا غلب ضوءه ضوء السراج.
অর্থঃ-“হযরত ইবনে আব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার কোন ছায়া মোবারক ছিল না। এবং সূর্যের আলোতে কখনও তাঁর ছায়া পড়তোনা। আরো বর্ণিত আছে-
উনারআলো সূর্যের আলোকে অতিক্রম করে যেত। আর বাতির আলোতেও কখনো তাঁর ছায়া মোবারক পড়তোনা। কেননা তাঁর আলো বাতির আলোকে ছাড়িয়ে যেতো।”
২.
আল্লামা শায়েখ ইব্রাহীম বেজরী রহমতুল্লাহি আল মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়া আলা শামায়েলে মুহম্মদিয়ার ১০৫ পৃষ্ঠায় হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নূরের দেহ মোবারক সূর্যের আলোর চেয়েও অধিক মর্যাদা সম্পন্ন তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-
وفى حديث ابن عباس لم يكن لرسول الله صلى الله عليه وسلم ظل ولم يقع مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوءها ولم يقع مع سراج قط الا علب ضوءه ضوءه.
অর্থঃ- “হযরত ইবনে আব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক ছিলনা এবং সূর্যের আলোতেও কখনই তাঁর ছায়া মোবারক পড়তো না। কেননা তাঁর নূরের আলো সূর্যের আলোকেও অতিক্রম করে যেতো। আর বাতির আলোতেও কখনই তাঁর ছায়া মোবারক পড়তো না কেননা তাঁর আলো বাতির আলোর উপরেও প্রাধান্য লাভ করতো।”
৩.
হযরত জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমতুল্লাহি তার খাছায়েছুল কুবরা নামক কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার কোন ছায়া ছিলনা।
যেমন হাদীস শরীফে উনারশাদ হয়েছে-
اخرج الحكيم الترمذى عن ذكوان فى نوادر الاصول ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرى له ظل فى شمس ولا قمر.
অর্থঃ- হাকীম তিরমীযী ফি নাওয়াদিরিল উসূল কিতাবে জাকওয়ান থেকে বর্ননা করেন- “নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতেও রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক দেখা যেতো না।”
৪.
হযরত আল্লামা ইবনে সাবাহ রহমতুল্লাহি শেফাউস সুদুরে বলেন, “হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বৈশিষ্ট সমূহ থেকে ইহাও একটি বৈশিষ্ট্য যে, উনারছায়া ছিলনা।” যেমন তিনি বলেন-
ان ظله كان لا يقع على الارض لانه كان نورا فكان اذا مشى فى الشمس اوالقمر لا ينظر له ظل.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-উনার ছায়া মোবারক ষমিনে পড়তো না কেননা তিনি ছিলেন নূর। অতঃপর যখন তিনি সূর্য অথবা চাঁদের আলোতে হাঁটতেন তখন তাঁর ছায়া মোবারক দৃষ্টিগোচর হতোনা।
৫.
আল্লামা সোলায়মান জামাল রহমতুল্লাহি তার ফতুহাতে আহমাদিয়া শরহে হামজিয়া কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে,
لم يكن له صلى الله تعالى عليه وسلم ظل يظهر فى شمس ولا قمر.
অর্থঃ- “হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক ছিলনা। এমনকি চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও তাঁর ছায়া মোবারক প্রকাশ পেতো না।

হযরত আল্লামা হুসাইন ইবনে মুহম্মদ দিয়ারে বেকরী রহমতুল্লাহি তাঁর খামীছ ফি আহওয়ালে আনফুসে নাফীস নামক কিতাবে বর্ণনা করেন-
لم يقع ظله صلى الله تعالى عليه وسلم على الاض ولايرى له ظل فى شمس ولا قمر.
অর্থঃ- “হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক জমিনে পড়তো না এবং চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও তাঁর ছায়া মোবারক দেখা যেতো না।”

হযরত আল্লামা সাইয়্যিদ যুরকানী রহমতুল্লাহি তাঁর শরহে মাওয়াহেবুল লাদুন্নীয়া শরীফে বর্ণনা করেছেন-
لم يكن له صلى الله عليه وسلم ظل فى شمس ولاقمر لانه كان نورا-
অর্থঃ- “চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক ছিল না। কেননা তিনি নূর ছিলেন।” (আর নূরের কোন ছায়া নেই) (সুবহানআল্লাহ)
ভালো লাগলে পোস্টি শেয়ার করুন

August 20, 2017

নবী নূর হওয়ার দলিল ভিডিও সহ দেখুন

কারো কাছে যদি মানুষত্ব থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে রসূলে পাক দঃ নুর
নবী করীম দঃ নূর হওয়ার অনেক দলিল দিলেন এই ভিডিওতে কষ্ট করে হলেও ভিডিওটি দেখুন অসংখ্য দলিল সহ

ফেইজবুকে আমি

October 22, 2015

নবী নূরের তৈরী

রাসূলে পাক(দ:) নূরের নবী


অনাদি ও অনন্ত স্বত্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন একা ও অপ্রকাশিত ছিলেন, তখন তাঁর আত্মপ্রকাশের সাধ ওইচ্ছা জাগরিত হলো।
তখন তিনি একক সৃষ্টি হিসাবে নবী করীম রাউফুর রাহিম নূরে মোজ্জাস্সাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক পয়দা করলেন। কোরআন ও হাদীস শরীফের আলোকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরি এর দলিলসমূহ অনুবাদসহ বিজ্ঞ পাঠকের সামনেতুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি।
কোরআন শরীফের আলোকে :আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন- ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ –অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে।। (সূরা মায়িদা আয়াত- ১৫)আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে।
নিম্নে আরো কয়েকটি প্রসিন্ধ তাফসীরের আলোকে দলিল উপস্থাপন করা হল :-

দলিল নং ১ :-বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে আব্বাস এর মধ্যে আছে-ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻳﻌﻨﻲ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺅﺳﻠﻢ –অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে ইবনে আব্বাস পৃষ্ঠা ৭২)। 


দলিল নং ২ :-ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত্-তবারী (রা) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে জারীর এর মধ্যে বলেন-ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻳﻌﻨﻲ ﺑﺎﻟﻨﺆﺭ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺅﺳﻠﻢ ﺍﻟﺬﻱ ﺍﻧﺎﺭ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻪ ﺍﻟﺤﻖ ﻭﺍﻇﻬﺮﺑﻪ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﻭﻣﺤﻖ ﺑﻪ ﺍﻟﺸﺮﻙ –অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, যে নূর দ্বারা আল্লাহ সত্যকে উজ্জ্বল ও ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং শিরিককেনিশ্চিহ্ন করেছেন।
( তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।্থ ফাযিল স্নাতক ২য় বর্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিলমাদরাসা।

দলিল নং ৩ :-মুহীউস্সুন্নাহ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ(রাঃ) (যিনি ‘খাজিন’ নামে পরিচিত) তাফসীরে খাজেনের মধ্যে বলেন-ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻳﻌﻨﻰ ﺑﺎﺍﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻧﻤﺎ ﺳﻤﺎﻩ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻻﻧﻪ ﻳﻬﺪﻯ ﺑﺎﻟﻨﻮﺭ ﻓﻲ ﺍﻟﻈﻼﻡ –অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন।
আল্লাহ তায়া’লা তাঁর নামকরণ করেছেন নূর, কারণতাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়। যেভাবে অন্ধকারে নূর দ্বারা পথ পাওয়া যায়। (তাফসীরে খাজিন ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

 দলিল নং ৪ :-ইমাম হাফেজ উদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আন- নাসাফী (রা) এই আয়াত শরীফ ( ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ) প্রসঙ্গে বলেন-ﻭﺍﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻻﻧﻪ ﻳﻬﺘﺪﻱ ﺑﻪ ﻛﻤﺎ ﺳﻤﻲ ﺳﺮﺍﺟﺎ ﻣﻨﻴﺮﺍ –আর নূর হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
কেননা তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়, যেমন তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বলা হয়েছে।
 (তাফসীরে মাদারিক ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

 দলিল নং ৫ :-ইমামুল মুতাকাল্লেমীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রা) এই আয়াত শরীফ ( ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ) প্রসঙ্গে বলেন- ﺍﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﺑﺎﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ –অর্থঃ নিশ্চয়ই নূর দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা আল কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা৩৯৫, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।আর যারা বলে যে ‘নূর ও কিতাবে মুবীন’ দ্বারা কুরআন মজীদকেই বুঝানো হয়েছে, ইমাম রাযী (রা) সে সম্পর্কে বলেন- ﻫﺬﺍ ﺿﻌﻴﻒ ﻻﻥ ﺍﻟﻌﻄﻒ ﻳﻮﺟﺐ ﺍﻟﻤﻐﺎﻳﺮﺓ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﻌﻄﻮﻑ ﻭﺍﻟﻤﻌﻄﻮﻑ ﻋﻠﻴﻪএই অভিমত দুর্বল, কারণ আতফ (ব্যাকরণগত সংযোজিত) মা’তুফ (সংযোজিত) ও মা’তুফ আলাইহি (যা তার সাথে সংযোজন কারা হয়েছে ) এর মধ্যে ভিন্নতা প্রমাণ করে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫)।

দলিল নং ৬ :-ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রা) বলেনঃ ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻫﻮ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ –অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর এসেছে, তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। (তাফসীরে জালালাইন শরীফ পৃষ্ঠা ৯৭)

 দলিল নং ৭ :-আল্লামা মাহমূদ আলূসী বাগদাদী (রা) বলেন-ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻋﻈﻴﻢ ﻫﻮ ﻧﻮﺭ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭﺍﻟﻨﺒﻰ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻰ ﺫﻫﺐ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻭﺍﻟﺰﺟﺎﺝ –অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে মহান নূর এসেছে। আর তিনি হলেন নূরুল আনোয়ার নবী মোখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটাই হযরত কাতাদাহও যুজাজের অভিমত। (তাফসীরে রুহুল মাআনী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭)।

 দলিল নং ৮ :-আল্লামা ইসমাঈল হক্কী (রা) বলেন-ﻗﻴﻞ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﺍﻻﻭﻝ ﻫﻮ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺑﺎﻟﺜﺎﻧﻰﺍﻟﻘﺮﺍﻥ –অর্থঃ বলা হয়েছে যে, প্রথমটা অর্থাৎ নূর দ্বারা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে এবং দ্বিতীয়টা অর্থাৎ কিতাবে মুবীন দ্বারা কুরআন কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬৯)আর অগ্রসর হয়ে বলেন-ﺳﻤﻰ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﻧﻮﺭﺍ ﻻﻥ ﺍﻭﻝ ﺷﻴﺊ ﺍﻇﻬﺮﻩ ﺍﻟﺤﻖ ﺑﻨﻮﺭ ﻗﺪﺭﺗﻪ ﻣﻦ ﻇﻠﻤﺔ ﺍﻟﻌﺪﻡ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭﻯ–অর্থ: আল্লাহ তায়া’লা রসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম রেখেছেন নূর। কেননা আল্লাহ তায়া’লা তাঁর কুদরতের নূর থেকে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ করেছেন তা তো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। যেমন তিনি ফরমায়েছেন- আল্লাহ তায়া’লা সর্বপ্রথম আমার নূর মোবারক কে সৃষ্টিকরেছেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৯)।

 দলিল নং ৯ :-ইমাম মুহীউস সুন্নাহ আবু মুহাম্মদ আল- হোসাইন আল-ফাররা আল-বাগাভী (রা) বলেন-ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻳﻌﻨﻰ ﺑﺎﺍﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ –অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে মাআলিমুত তান্যীল, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা২৩, তাফসীরে খাযিনের পাদ টীকা)এ ছাড়া আরো অনেক তাফসীর গ্র্েরন্থর মধ্যে আছে যে প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরি তা নিম্নরূপ :-সুরা মায়েদা পারা ৬, ১৫ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-১। তাফসীরে মারেফুল কোরআন পৃষ্ঠা ৫৪। ২। তাফসীরে আবিসউদ ২য় খন্ড, পৃ- ২৫১, ৩। তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃ- ৩৬৯, ৪। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১ম খন্ড, পৃ- ৩৬০, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭, ৫। তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৮৬, ৬। তাফসীরে কবীর ১১তম খন্ড,পৃ- ১৬৩, ৭। তাফসীরে কুরতুবী ৬ষ্ঠ খন্ড পৃ- ১১৮, ৯। তাফসীরে বায়জাভী ১ম খন্ড, পৃ- ৬৪, ১০। তাফসীরে মাজহারী ৩য় খন্ড, পৃ- ৬৮, ১১। তাফসীরে কবীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৪৬২, ১২। ছফওয়াতুত তাফাসীর ২য় খন্ড, পৃ- ১৪০, ১৩। তাফসীরে দুররে মানসুর ২য় খন্ড, পৃ- ১৮৭, তাফসীরে নূরুল কোরআন ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬১, তাফসীরে নঈমী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ২৯৫।সূরা তাওবা পারা ১০, ৩২ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-১। তাফসীরে দুররে মানসুর ৩ খন্ড, পৃ- ২০১, ২। তাফসীরে কবীর ১৬ম খন্ড, পৃ- ৩৪, ৩। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৪ম খন্ড, পৃ- ৪৮। সুরা নূর পারা ১৮, আয়াত নং ৩৫:-১। তাফসীরে ইবনে আব্বাস ৪র্থ খন্ড, পৃ- ২৪, ২। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১০ম খন্ড, পৃ- ১৬৬। সুরা আহযাব আয়াত নং ৪৬:-১। তাফসীরে আহকামুল কোরআন লিল ইবনুল আরাবী ৩য় খন্ড, পৃ- ১৫৪৬, ২। তাফসীরে মাওয়ারদী ৪র্থ খন্ড, পৃ- ৪১১।প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শানে না’ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিবেশনকারী অন্যতম সাহাবী হযরত ক’ববিন যোহাইর (রা) তাঁর নিম্নোক্ত কাসিদার মধ্যে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নূরের নবী বলে সম্বোধন করেছেন- ﺍﻥ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﻟﻨﻮﺭﻳﺴﺘﻀﺎﺀ ﺑﻪ ﻣﻬﻨﺪ ﻣﻦ ﺳﻴﻮﻑ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺴﻠﻮﻝ –অর্থ : নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূর, যা দ্বারা আলোকিত হওয়া যায়। তিনি আল্লাহর তরবারি সমূহের মাঝে ধারালো উজ্জ্বল তরবারি। (কাসিদা- ই- কা’ব বিন যোহাইর (রা), মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক আলিম শ্রেণির সিলেবাসের অন্তরভুক্ত আরবী সাহিত্য বইয়ের ১৪৮ পৃষ্ঠা)হাদীস শরীফের আলোকে :

দলিল নং ১০:-ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﻠﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺎﺑﻰ ﺍﻧﺖ ﻭﺍﻣﻰ ﺍﺧﺒﺮﻧﻰ ﻋﻦ ﺍﻭﻝ ﺷﺊ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ؟ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﺟﺎﺑﺮ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺪ ﺧﻠﻖ ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻧﻮﺭﻧﺒﻴﻚ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﻓﺠﻌﻞ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻳﺪﻭﺭ ﺑﺎﻟﻘﺪﺭﺓ ﺣﻴﺚ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻓﻲ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﻟﻮﺡﻭﻻ ﻗﻠﻢ ﻭﻻ ﺟﻨﺔ ﻭﻻ ﻣﻠﻚ ﻭﻻ ﺳﻤﺎﺀ ﻭﻻ ﺍﺭﺽ ﻭﻻ ﺷﻤﺲ ﻭﻻ ﻗﻤﺮ ﻭﻻ ﺟﻦ ﻭﻻ ﺍﻧﺲ – ﻓﻠﻤﺎ ﺍﺭﺍﺩ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖﻗﺴﻢ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﺍﺟﺰﺍﺀ ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻻﻭﻝ ﺍﻟﻘﻠﻢ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻠﻮﺡ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﺛﻢ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺑﻊ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﺍﺟﺰﺍﺀ ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻻﻭﻝ ﺣﻤﻠﺔ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻟﻜﺮﺳﻰ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺑﺎﻗﻰ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺛﻢ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﺮﺑﻊ ﺍﺭﺑﻊ ﺍﺟﺰﺍﺀ ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻻﻭﻝ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻻﺭﺿﻴﻦ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﺍﻟﻨﺎﺭ————————————— ﺍﻟﺦ –অর্থ : হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিআবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মা-বাবা আপনার কদম মোবারকে উৎসর্গিত, আপনি দয়া করে বলুন, সকল বস্তুর পূর্বে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়া’লা কোন বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়’লা সমস্ত কিছুর পূর্বে তোমার নবীর (তোমার) নূর মোবারক তাঁরই নূর মোবারক হতে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর ওই নূর আল্লাহ তায়’লারই মর্জি মুতাবেক তাঁরই কুদরতি শক্তিতে পরিভ্রমণ করতে লাগল। ওই সময় না ছিল বেহেশ্ত-দোযখ, আরছিলনা আসমান-যমীন, চন্দ্র-সূর্য, মানব ও দানব। এক পর্যায়ে মহান আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত পয়দা করার মনস্থ করেছিলেন, প্রথমেই ওই নূর মোবারককে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম অংশ দিয়ে কলম, দ্বিতীয় অংশ দিয়ে লওহ, তৃতীয়অংশ দিয়ে আরশ, সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে পুণরায় চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমাংশ দিয়ে আরশবহনকারী ফেরেশতাদের দ্বিতীয় অংশ দ্বারা কুরসী, তৃতীয় অংশ দ্বারা অন্যান্য ফেরেশতাদের সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকেআবারও চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে সপ্ত আসমান, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে সপ্ত যমীন, তৃতীয় ভাগ দিয়ে বেহেশত-দোযখ এবং পরবর্তী ভাগ দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সকল বস্তু সৃষ্টি করে। (আল মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭১)।

দলিল নং ১১:-ﻋﻦ ﻛﻌﺐ ﺍﻟﺨﺒﺎﺭ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻟﻤﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﺎﺕ ﺑﺴﻂ ﺍﻻﺭﺽ ﻭﻗﻊ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻭﻗﺒﺾ ﻗﺒﻀﺔ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩﻭ ﻗﺎﻝ ﻟﻬﺎ ﻛﻮﻧﻰ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻓﺼﺎﺭﺕ ﻋﻤﻮﺩﺍ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﻓﻌﻼ ﺣﺘﻰ ﺍﻧﺘﻬﻰ ﺍﻟﻰ ﺣﺠﺐ ﺍﻟﻌﻈﻤﺔﻓﺴﺠﺪ ﻭ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺳﺠﻮﺩﻩ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﻬﺬﺍ ﺧﻠﻘﺘﻚ ﻭ ﺳﻤﻴﺘﻚ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﻨﻚ ﺍﺑﺪﺍ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻭ ﺑﻚ ﺍﺧﺘﻢ ﺍﻟﺮﺳﻞ –অর্থ : হযরত কাব আহবার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন যখন সৃষ্টি জগত সৃজন করার ইচ্ছা করলেন তখন মাটিকে সস্প্রসারিত করলেন, আকাশকে উঁচু করলেন এবং আপন নূও হতে এক মুষ্ঠিনূর গ্রহন করলেন। তারপর উক্ত নূরকে নির্দেশ দিলেন’ তুমি মুহাম্ম্দ হয়ে যাও।’ অতএব সে নূও স্তম্ভের ন্যায় উপরের দিকে উঠতে থাকল এবং মহত্বের পর্দা পর্যন্ত পৈাছে সিজদায় পরে বলল,’আলহামদুলিল্লাহ্’ তখন আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে ইরশাদ হল,এজন্যই তোমাকে সৃষ্টি করেছি আর তোমার নাম মুহাম্ম্দ রেখেছি। তোমার হতেই সৃষ্টি কাজ শুরু করব এবং তোমাতেই রিসালাতের ধারা সমাপ্ত করব। (সিরাতুল হালাভিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা৫০)।

 দলিল নং ১২-ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﻛﻨﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﺸﺠﺮ ﺛﻮﺑﺎ ﻟﺮﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﻧﻄﻔﺎ ﺍﻟﻤﺼﺒﺎﺡ ﻭ ﺳﻘﻄﺖ ﺍﻻﺑﺮﺓ ﻣﻦ ﻳﺪﻱ ﻓﺪﺧﻞ ﻋﻠﻲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﺿﺎﺀ ﻣﻦ ﻧﻮﺭ ﻭ ﺟﻬﻪ ﻓﺠﺪﺕ ﺍﻻﺑﺮﺓ –অর্থ : “হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাপড় মোবারক সেলাই করেছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারণে) নিভে গেল এবং আমি সুচটি হারিয়ে ফেললাম। এরপরই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যোতিতে আমার অন্ধকার ঘর আলোময় হয়ে গেল এবং আমি (ঐ আলোতেই) আমার হারানো সুচটি খুজে পেলাম”। (ইমাম ইবনে হায়তামী (রাঃ) এর আন-নে’মাতুল কোবরা আলার আলম গ্রন্থে ৪১ পৃষ্ঠা)।

দলিল নং ১৩-ﺍﺧﺮﺝ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﻋﻤﺮ ﺍﻟﻌﺪﻧﻲ ﻓﻰ ﻣﺴﻨﺪﻩ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺍﻥ ﻗﺮﻳﺸﺎ ﻛﺎﻧﺖ ﻧﻮﺭﺍ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺒﻞ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﺑﺎﻟﻔﻰ ﻋﺎﻡ ﻳﺴﺒﺢ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻭ ﺗﺴﺒﺢ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺑﺘﺴﻴﺤﻪ ﻓﻠﻤﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺩﻡ ﺍﻟﻘﻲ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻞﺍﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﻫﺒﻄﻨﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻰ ﺍﻻﺭﺽ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﺍﺩﻡ ‏( ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ‏) ﻭ ﺟﻌﻠﻨﻰ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﻧﻮﺡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭ ﻕ ﻑ ﺑﻰ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﺍﺑﺮﻫﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺛﻢ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻨﻘﻠﺒﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﻼﺏ ﺍﻟﻜﺮﻳﻤﺔ ﻭ ﺍﻻﺭﺣﺎﻡﺍﻟﻄﺎﻫﺆﺓ ﺣﺘﻰ ﺍﺧﺮﺟﻨﻰ ﻣﻦ ﺑﻴﻦ ﺍﺑﻮﻯ ﻟﻢ ﻳﻠﺘﻘﻴﺎ ﻋﻠﻰ ﺳﻔﺎﺡﻗﻂ –অর্থ : হযরত ইবনে আলী ওমর আল-আদানী স্বীয় মুসনাদে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে তাঁর সন্তানদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার তারতম্যটুকুও দেখাতে লাগলেন। তিনি ( আদম আলাইহিস সালাম ) তাদের মধ্যে শেষপ্রান্তে একটা উজ্জ্বল নূর দেখাতে পেলেন। তখন তিনি বললেন,” হে রব! ইনি কে? ( যাকে সবার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত নূর হিসাবে দেখতে পাচ্ছি?) উত্তরে মহান রব্বুল আলামীন ইরশাদ করলেন,” ইনি হলেন তোমার পুত্র-সন্তান হযরত আহমদ মুজ্তবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি প্রথম, তিনি শেষ, তিনি হবেনআমার দরবারে প্রথম সুপারিশকারী (ক্বিয়ামতের দিনে)। ( আল-খাসাইসুল কুবরা ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯)

দলিল নং ১৪-ইমাম হাফেজ আবুল ফযল ক্বাযী আয়ায (রা) বলেন-ﻭ ﻗﺪ ﺳﻤﺎﻩ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻰ ﻭ ﺳﺮﺍﺟﺎ ﻣﻨﻴﺮﺍ ﻓﻘﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻭ ﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻧﺎ ﺍﺭﺳﻠﻨﺎﻙ ﺷﺎﻫﺪﺍ ﻭ ﻣﺒﺸﻴﺮﺍ ﻭ ﻧﺬﻳﺮﺍ ﻭ ﺩﺍﻋﻴﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺎﺫﻧﻪ ﻭ ﺳﺮﺍﺟﺎ ﻣﻨﻴﺮﺍ ﻭ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﻏﻴﺮ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﻮﺿﻊ ﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻻﻇﻞ ﻟﺸﺨﺼﻪ ﻓﻲ ﺷﻤﺲ ﻭ ﻻ ﻗﻤﺮ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﺍ ﺍﻟﺬﺑﺎﺏ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﻘﻊ ﻋﻠﻰ ﺟﺴﺪﻩ ﻭ ﻻ ﺛﻴﺎﺑﻪ –অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়া’লা কোরআন করীমে তাঁর নাম রেখেছেন নূর ও সিরাজুম্ মুনীর। যেমন তিনি ফরমায়েছেন,নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর ও স্পষ্টকিতাব এসেছে। আরো ফরমায়াছেন, আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছিহাজের ও নাজেররূপে, আল্লাহর অনুমক্রিমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ (সিরাজুম মুনীর )রূপে। নিশ্চয়ই তাঁর ছায়া ছিল না. না সূর্য়ালোকে না চন্দ্রালোকে কারণ তিনি ছিলেন নূর। তাঁর শরীল ও পোশাকমোবারকে মাছি বসত না। (শিফা শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৪২)।

দলিল নং ১৫-ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻠﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺳﺎﺋﻞ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻛﻢ ﻋﻤﺮﻙ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﻴﻦ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺴﺖ ﺍﻋﻠﻢ ﻏﻴﺮ ﺍﻥ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﺠﺎﺏ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻧﺠﻤﺎ ﻳﻄﻠﻊ ﻓﻲ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﺍﻟﻒ ﺳﻨﺔ ﻣﺮﺓ ﺭﺍﻳﺘﻪ ﺍﺛﻨﻴﻦ ﻭ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﺍﻟﻒ ﻣﺮﺓ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻭ ﻋﺰﺓ ﺭﺑﻰ ﺟﻞﺟﻼ ﻟﻪ ﺍﻧﺎ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻜﻮﺏ-অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা জিব্রাঈল আলায়হিস সালামকে জিজ্ঞেসা করলেন, ওহে জিব্রাঈল! তোমার বয়স কত? উত্তরে জিব্রাঈল বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো সঠিক জানি না। তবে এতটুকু বলতে পারি ( সৃষ্টি জগত সৃষ্টির পূর্বে) আল্লাহ তায়’লা নূরানী আযমতের পর্দা সমূহের চতুর্খ পর্দায় একটি নূরানী তারকা সত্তর হাজার বছর পরপর উদিত হত। আমি আমার জীবনে সেই নূরানী তারকা বাহাত্তর হাজার বারউদিত হতে দেখেছি। অতঃপর নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহিও সাল্লাম ইরশাদ করলেন মহান রাব্বুল আলামীনের ইজ্জতের কসম করে বলছি, সেই অত্যুজ্জ্বল নূরানী তারকাআমিই ছিলাম। (সীরাতে হালাভীয়া পৃষ্ঠা ৪৯, তাফসীরে রুহুল বয়ান পৃষ্ঠা ৫৪৩)

দলিল নং ১৬-ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻇﻞ ﻓﻲ ﺷﻤﺲ ﻭ ﻻ ﻗﻤﺮ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﺍ –অর্থ : “সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা, তিনি ছিলেন আপদমস্তক নূর”। (যুরকানী শরীফ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ২২০)।
এ ছাড়া আরো অনেক হাদীস শরীফ গ্র্েরন্থর মধ্যে আছে যেনবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরি তা নিম্নরূপ :-১। মিশকাত শরীফ পৃষ্ঠা ৫১৩, ২৪ এর ১০নং হাশিয়া, ৫১১ এর ৬নং হাশিয়া, তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৭, মাওয়াহিবে লাদুনিয়া পৃষ্ঠা ৪৫,শরহে সুন্নাহ ১০ম খন্ড,পৃষ্ঠা ২০৭, মিরকাত ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪৬,১৬৬,১৯৪। তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, প- ৩৭, মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়ার ২য় খন্ড, পৃ- ২৮৬, ১৮। নশরুততীব পৃ- ৫, কৃতঃ আশরাফ আলী থানবী, ১৯। এমদাদুছ ছুলূক পৃষ্ঠা ২০১, কৃতঃ রশিদ আহমেদ গাংগুহী। ২০। শুকরে নিয়ামত কৃতঃ কাসেম নানুতুবী, গাওহারে সিরাজী পৃষ্ঠা ৬৯, কৃত : সিরাজুল ইসলাম।হে আল্লাহ ! তুমি সকলকে হুববে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও দীদারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নসীব করো। ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা খাইরি খালাক্বহী ওয়া নূরে যাতিহী ওয়া জীনাতি ফারশিহীসাইয়েদিনা ওয়া মাওলানা মোহাম্মদিও ওয়া আলা আলিহী ওয়াআসহাবিহী আজমাঈন। আমীন !