হেড লাইন

আজ পবিত্র ১০ই মুহররম শরীফ ইমাম হুসাইন রদ্বিঃ ওনার পবিত্র শাহাদাত বার্ষিকী

October 03, 2017

September 19, 2017

তরজুমান মাহে জমাদিউল আউয়াল ২০০৭

মাসিক তরজুমান মাহে জমাদিউল আউয়াল ১৪২৮ হিজরী ২০০৭ মে জুন
খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে এই কপি তে








September 18, 2017

বই যলযল

ওহাবী দেওবন্দীদের খন্ডন খুবই গগুরুত্বপূর্ণ বই
বইঃ যলযলা

লেখকঃ আল্লামা আরশাদুল কাদেরী

বই যলযলা

বই যলযলা সূচী পত্র

September 17, 2017

বই বায়াত ও খিলাফতের বিধান

ডাউনলোড করুন
লেখকঃ মোজাদ্দীদ এ দ্বীন এ মিল্লাত ইমাম আহাম্মদ রেজা খাঁন ব্রেলভী রহঃ


বায়াত ও খিলাফতের বিধান

মাসিক তরজুমান মাহে জিলক্বদ ২০১৭

প্রকাশনায়ঃ আনজুমান এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ট্রাস্ট

তরজুমান 

September 16, 2017

ফতোয়ায়ে ছালাছা

লেখকঃ অধ্যক্ষ এম এ জলিল রহঃ



ফতোয়ায়ে ছালাছা
লেখক অধ্যক্ষ এম এ জলিল রহঃ

September 13, 2017

বই নযরে শরীয়ত

আসসালামু আলাইকুম
অসাধারণ আকিদা ভিত্তিক বই
বইঃ নযরে শরীয়ত
প্রকাশনায়ঃ আনজুমান—এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ট্রাস্ট

ডাউনলোড করুন👈👈👉👉ডাউনলোড করুন
নযরে শরীয়ত
সুচী 

আমাদের নবী দঃ ওনার ছায়া ছিলো না

আমাদের নবী রসূলে আরবী সকল নবীর সেরা নবী উভয় জগতের নবী কাউছারের মালিক নবী হায়াতুন্নবী উম্মতের কান্ডারী নবী  হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার যে কোন ছায়া মোবারক ছিল না--
Subhan Allah kiya nam hai name Muhammad S:


সুবহানআল্লাহ .নিম্নে তার দলীল পেশ করা হলো----........
১. মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি জামিউল ওসায়েল ফি শরহে শামায়েল কিতাবের ২১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক ছিলনা।
যেমন হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে-
وفى حديث ابن عباس قال لم يكن لرسول الله صلى الله عليه وسلم ظل ولم يقم مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوء الشمس ولم يقم مع سراج قط الا غلب ضوءه ضوء السراج.
অর্থঃ-“হযরত ইবনে আব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার কোন ছায়া মোবারক ছিল না। এবং সূর্যের আলোতে কখনও তাঁর ছায়া পড়তোনা। আরো বর্ণিত আছে-
উনারআলো সূর্যের আলোকে অতিক্রম করে যেত। আর বাতির আলোতেও কখনো তাঁর ছায়া মোবারক পড়তোনা। কেননা তাঁর আলো বাতির আলোকে ছাড়িয়ে যেতো।”
২.
আল্লামা শায়েখ ইব্রাহীম বেজরী রহমতুল্লাহি আল মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়া আলা শামায়েলে মুহম্মদিয়ার ১০৫ পৃষ্ঠায় হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নূরের দেহ মোবারক সূর্যের আলোর চেয়েও অধিক মর্যাদা সম্পন্ন তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-
وفى حديث ابن عباس لم يكن لرسول الله صلى الله عليه وسلم ظل ولم يقع مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوءها ولم يقع مع سراج قط الا علب ضوءه ضوءه.
অর্থঃ- “হযরত ইবনে আব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক ছিলনা এবং সূর্যের আলোতেও কখনই তাঁর ছায়া মোবারক পড়তো না। কেননা তাঁর নূরের আলো সূর্যের আলোকেও অতিক্রম করে যেতো। আর বাতির আলোতেও কখনই তাঁর ছায়া মোবারক পড়তো না কেননা তাঁর আলো বাতির আলোর উপরেও প্রাধান্য লাভ করতো।”
৩.
হযরত জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমতুল্লাহি তার খাছায়েছুল কুবরা নামক কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার কোন ছায়া ছিলনা।
যেমন হাদীস শরীফে উনারশাদ হয়েছে-
اخرج الحكيم الترمذى عن ذكوان فى نوادر الاصول ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرى له ظل فى شمس ولا قمر.
অর্থঃ- হাকীম তিরমীযী ফি নাওয়াদিরিল উসূল কিতাবে জাকওয়ান থেকে বর্ননা করেন- “নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতেও রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক দেখা যেতো না।”
৪.
হযরত আল্লামা ইবনে সাবাহ রহমতুল্লাহি শেফাউস সুদুরে বলেন, “হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বৈশিষ্ট সমূহ থেকে ইহাও একটি বৈশিষ্ট্য যে, উনারছায়া ছিলনা।” যেমন তিনি বলেন-
ان ظله كان لا يقع على الارض لانه كان نورا فكان اذا مشى فى الشمس اوالقمر لا ينظر له ظل.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-উনার ছায়া মোবারক ষমিনে পড়তো না কেননা তিনি ছিলেন নূর। অতঃপর যখন তিনি সূর্য অথবা চাঁদের আলোতে হাঁটতেন তখন তাঁর ছায়া মোবারক দৃষ্টিগোচর হতোনা।
৫.
আল্লামা সোলায়মান জামাল রহমতুল্লাহি তার ফতুহাতে আহমাদিয়া শরহে হামজিয়া কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে,
لم يكن له صلى الله تعالى عليه وسلم ظل يظهر فى شمس ولا قمر.
অর্থঃ- “হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক ছিলনা। এমনকি চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও তাঁর ছায়া মোবারক প্রকাশ পেতো না।

হযরত আল্লামা হুসাইন ইবনে মুহম্মদ দিয়ারে বেকরী রহমতুল্লাহি তাঁর খামীছ ফি আহওয়ালে আনফুসে নাফীস নামক কিতাবে বর্ণনা করেন-
لم يقع ظله صلى الله تعالى عليه وسلم على الاض ولايرى له ظل فى شمس ولا قمر.
অর্থঃ- “হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক জমিনে পড়তো না এবং চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও তাঁর ছায়া মোবারক দেখা যেতো না।”

হযরত আল্লামা সাইয়্যিদ যুরকানী রহমতুল্লাহি তাঁর শরহে মাওয়াহেবুল লাদুন্নীয়া শরীফে বর্ণনা করেছেন-
لم يكن له صلى الله عليه وسلم ظل فى شمس ولاقمر لانه كان نورا-
অর্থঃ- “চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মোবারক ছিল না। কেননা তিনি নূর ছিলেন।” (আর নূরের কোন ছায়া নেই) (সুবহানআল্লাহ)
ভালো লাগলে পোস্টি শেয়ার করুন

September 08, 2017

September 05, 2017

রসূলুল্লাহ দঃ ’র ইশারায় দুই টুকরো হয়েছিল চাঁদ, দেখেছিলেন ভারতীয় রাজাও

বিশ্বনবী (সা.)’র ইশারায় দুই টুকরো হয়েছিল চাঁদ, দেখেছিলেন ভারতীয় রাজাও

চাঁদ দুই টুকরো হওয়ার সাক্ষী রাজা চেরামানের নামে ভারতের কেরালা রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ। কারো কারো মতে এটাই ছিল ভারতের প্রথম বা সবচেয়ে পুরনো মসজিদ
১৪৪২ চন্দ্রবছরেরও আগে ১৪ই জিলহজ নূরনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)’র মোজেযার প্রকাশ হিসেবে তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় পূর্ণ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

আবু জাহলের নেতৃত্বে একদল মূর্তিপূজারী ও ইহুদি  জানায় যে, মুহাম্মাদ (সা.) যে আল্লাহর রাসূল তা তারা মেনে নেবে যদি তিনি চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখাতে পারেন। তখন রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করে আঙ্গুলের ইশারা করলে ওই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে।

এই প্রসঙ্গে হাদিস শরীফ➡
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ও খালীফা (রঃ)…… আনাস (ইবনে মালিক) (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মক্কাবাসী কাফিররা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট মুজিযা দেখানোর জন্য দাবী জানালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করে দেখালেন। (সহীহ বুখারী শরীফঃ- ৩৩৭৬, খণ্ডঃ-০৬)

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-কামারের প্রথম দুই আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে:  "কিয়ামত আসন্ন এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। তারা কোনো নিদর্শন সরাসরি দেখলেও মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, ‘এতো চিরাচরিত জাদু’। "

ওই আরব মুশরিকরা এই মোজেজা অস্বীকার করে একে জাদু বলে অভিহিত করে। কিন্তু  উপস্থিত ইহুদিরা চাঁদ দুই ভাগ হওয়ার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। কারণ, ওই ইহুদিরা তাওরাতে পড়েছিল যে হযরত মূসা (আ.)’র উত্তরসূরি হযরত ইউশা (আ.)’র জন্য মহান আল্লাহ চাঁদ ও সূর্যকে স্থির করে রেখেছিলেন।

রাসূল (সা.) চাঁদকে এত স্পষ্টভাবে দুই টুকরা করেন যে ওই দুই টুকরার ব্যবধানের মধ্যে হেরা পর্বত দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু আবু জাহল বলে ওঠে, “তিনি নজরবন্দি করেছেন। যেসব লোক বিদেশে গেছে তারা ফিরে এসে সমর্থন জানালে তখন বুঝব।” বিদেশ থেকে আসা লোকেরা দেশে ফিরে এসে এ ঘটনার সত্যতাকে সমর্থন করলেও আবু জাহল বলে, “ তিনি গোটা পৃথিবীর সব লোককে নজরবন্দী করেছেন।"

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মালাবার রাজ্যের (বর্তমান কেরালা অঞ্চল) ততকালীন রাজা চক্রবর্তী ফারমাস (চেরামান পিরুমেল) আকাশে চাঁদ দুই টুকরো হয়ে যাওয়ার ওই অলৌকিক ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখেছিলেন। যখন তিনি জানতে পারেন যে আরব দেশে শেষ নবীর আবির্ভাব ঘটেছে ও রাসূল (সা.)ই চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছেন, তখন তিনি মক্কায় গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ভারতের ইতিহাস গ্রন্থ ‘তারিখে ফেরেশতা’য় ওই ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে।  চেরামানের নামে ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।



মার্কিন মহাশূন্য গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারীদের মাধ্যমে তোলা ছবিতেও চাঁদের মধ্যে গভীর ফাটলের চিহ্ন বা দাগ দেখা গেছে এবং এ থেকে স্পষ্ট হয়, কোনো এক সময় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

ভারতীয় রাজা যে ওই  ঘটনা দেখেছিলেন তার লিখিত বিবরণের একটি প্রাচীন দলিল বর্তমানে লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। ওই দলিলে ভারতীয় সেই রাজার ভ্রমণের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ওই রাজা ভারতে ফেরার পথে ইয়েমেনে মারা যান।

হযরত মুসা (আ.)'র খোদায়ী লাঠির আঘাতে নীল দরিয়া দু-ভাগ হয়ে মাঝখানে শুকনো পথ বের হয়েছিল এবং ডুবে মরেছিল ফেরাউন ও তার সেনারা। অন্যদিকে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কোনো লাঠি ছাড়াই বহু দূরের চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করেন মহান আল্লাহর দেয়া ক্ষমতাবলে।
সোবহান আল্লাহ
সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

Kalam e Ala Hazrat r:


আসসালামু আলাইকুম
ডাউনলোড করুন কালামে আলা হযরত রহঃ







September 01, 2017

কুরবানীর পশু যবেহ করার নিয়ম

* কুরবানির পশু শর্ত মোতাবেক ক্রটি মুক্ত হতে হবে।

* পশু ভাল এবং মোটা-তাজা হবে।

* কুরবানি করার পূর্বে পশুকে ঘাস-পানি দিবে, যেন ক্ষুদার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায় জবাই করা না হয়।

* একটি পশুর সামনে অন্যটি জবাই করবে না।

* প্রথমে ছুরি ধাড়ালো করে নিতে হবে।

* অতপর পশুটিকে বাম পাশে কেবলা মুখী করে শুইয়ে দিবে এবং নিজের ডান পা পশুটির গলার উপর রেখে তারাতারি জবাই করে দিবে।

* জবাই করার প্রথমে এ দোয়া পড়ে নিবে-

اني وجهت وجهي للذي فطر السموات والارض حنيفا وما انا من المشركين . ان صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين . لاشريك له وبذالك امرت وانا من المسلمين

উচ্চারণ: ইন্-নী ওয়াজ্জা‘হ্তু ওযাজ্হিয়া লিল্লাযী ফাতারাস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল র্আদ্বা ‘হানীফাও্ ওয়ামা আনা- মিনাল্ মুশ্রিকীন। ইন্-না সলা-তী ওয়া নুসুকী ওয়া মা‘হ্ইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। লা-শারীকা লাহু ওয়া বিযা-লিকা উর্মিতু ওয়া আনা- মিনাল্ মুসলিমীন।

* কুরবানি নিজের পক্ষ হতে হলে জবাই করার পর নিমোক্ত এ দোয়াটি পড়বে-

اللهم تقبل مني كما تقبلت من خليلك ابراهيم عليه السلام وحبيبك سيدنا محمد صلي الله عليه وسلم

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্-মা তাক্বাব্বাল্ মিন্-নী কামা- তাক্বাব্বাল্তা মিন খালীলিকা ইবরা-হীমা ‘আলাইহিস্ সালাম, ওয়া ‘হাবীবিকা সায়্যিদিনা- মু‘হাম্-মাদিন্ ছল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

* আর যদি অন্যদের পক্ষ হতে জবাই করা হয় তবে مني (মিন্-নী) এর স্থলে من (মিন্) বলে তাদের নাম বলবে।

* যতক্ষণ পর্যন্ত পশুটি নিরব ও ঠান্ডা না হয়ে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত হাত-পা কাটবে না, চামড়া আলাদা করবে না।

জবাই সম্পর্কিত কিছু জরুরি মাসআলা

(১) নিজের কুরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করাই উত্তম। অন্যের দ্বারা জবাই করালেও জায়েয হবে, তবে জবাই করার স্থানে উপস্থিত থাকা উত্তম। (শামি)

(২) জবাই করার সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে ভুলে গেলে পরে পড়ে নিবে।

(৩) জবাইকারী ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো সুন্নাতে মুয়াক্বাদা। বিনা প্রয়োজনে অন্যদিকে হওয়া মাকরূহ।
(৪) প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষ, বালেগ-নাবালেগ, সুস্থ-পাগল, পবিত্র বা অপবিত্র সকলের জন্যই জবাই করা জায়েয। তবে শর্ত হলো, জবাই করার শরয়ি পদ্ধতি জানতে হবে এবং জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। (মালাবুদ্দামিনহু)

(৫) শরয়ি নিয়ম অনুযায়ী জন্তু জবাই করার সময় চারটি রগ কাটতে হয়। শ্বাস নালী, খাদ্য নালী এবং ওহার দুই পাশে দু’টি রক্তের মোটা রগসহ কমপক্ষে তিনটি কাটা গেলে খাওয়া হালাল হবে। অথবা উল্লেখিত চার রগের বেশির ভাগ কাটা গেলে জন্তু খাওয়া হালাল হবে অন্যথায় হারাম হবে। (শামি)

(৬) জবাই করার সময় সম্পূর্ণ গলা কেটে ফেলা মাকরূহ। (ফাতহুল কাদির)

(৭) কুরবানির জন্তু মেশিন দ্বারা জবাই করা জায়েজ। কিন্তু শর্ত হলো, সুইচ চালু করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হবে এবং উল্লেখিত রগ সমূহ কাটতে হবে।

(৮) জবাই করার সময় জন্তুর গলার উপর পা রাখা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

(৯) বিসমিল্লাহ পড়ার পর জন্তু পালিয়ে গেলে দ্বিতীয়বার জবাই করতে বিসমিল্লাহ পড়া ওয়াজিব।

August 24, 2017

খাসি বা বলদ গরু দিয়ে কুরবানি করা যাবে কী




চরমপন্থী শিয়াদের শ্রেণী বিভাগ

 এর   ঘালী   বা   চরমপন্থী   শিয়াদের  শ্রেণী  বিভাগ: (২৪) 
অধ্যক্ষ এম এ জলিল রহঃ
================================
উপরে      উল্লেখ        করা      হয়েছে      যে,      চতুর্থ      ফির্কার শিয়াদেরকে   ঘালী  বা  চরমপন্থী  শিয়া  বলা  হয়।   এরা পুনরায় চব্বিশটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এদের মূল আক্বীদা       হলো       -        ”হযরত       আলী-        ই-       খোদা” (নাউযুবিল্লাহ)। এই আক্বীদার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়েই  তাদের  মধ্যে  এই  চব্বিশটি  উপ-  শাখার  সৃষ্টি  হয়। সংক্ষেপে তাদের ইতিবৃত্ত ও আক্বীদা নিম্নে  প্রদত্ত হলো:



১। সাবাইয়্যা শিয়া:  এরা আবদুল্লাহ ইবনে সাবা নামক ইহুদি   চরের   অনুসারী।   চরমপন্থী   এই   শিয়া   গ্রুপের  আক্বীদা  হলো   -    ”হযরত  আলী  -ই-   খোদা”।  হযরত আলী শাহাদত  বরণ করার পর  আবদুল্লাহ ইবনে সাবা প্রচার   করে   যে,   ”তিনি    মরেননি    -     ঘাতক    আবদুর  রহমান ইবনে মূলজেম হযরত  আলীকে  শহীদ   করতে পারেনি   -  বরং    একটি   শয়তান  হযরত  আলীর  সুরত ধারণ  করেছিল। ইবনে  মূলজেম তাকেই হযরত আলী  মনে    করে    কতল    করেছে।    ঐ   সময়     হযরত   আলী আকাশের  মেঘ   মালায়  লুকিয়ে   যান    এবং  বর্তমানের মেঘের  গর্জন  হযরত  আলীরই  গর্জন।  মেঘের  বিদ্যুত  হচ্ছে     হযরত     আলীর       তরবারী     বা     কোড়া।     তিনি পৃথিবীতে  আবার  নেমে  আসবেন  এবং  তাঁর  শত্রুদের  থেকে প্রতিশোধ নেবেন”।

এ   কারণেই  চরমপন্থী   এই     শিয়া   গ্রুপ  মেঘের  গর্জন শুনলেই      বলে      উঠে      ”আলাইকাচ্ছালাম      আইয়ুহাল  আমীর”  অর্থাৎ  হে  আমিরুল  মুমিনীন!  আপনার  উপর  ছালাম বর্ষিত হোক। তাদের এ কুধারণা কুসংস্কারেরই ফলশ্রুতি। তাদের ধারণা মতে যদি সত্যি সত্যি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু  মেঘ মালায় লুকিয়ে থাকতেন, তাহলে এখনই     তাঁর  শত্রুদের নিপাত করতেও সক্ষম হতেন।  এত   দীর্ঘ  প্রতীক্ষার  কি  প্রয়োজন?   (তোহফা  ইসনা আশারিয়া)

২।     মুফাদ্দালিয়া  শিয়া:  চরমপন্থী   দ্বিতীয়   শাখা   হলো মুফাদ্দাল সাইরাফী নামক নেতার অনুসারী  দল। প্রথম শাখার আক্বীদা তো এরা পোষণ করেই - তদুপরি আর একটু অগ্রসর হয়ে তারা বলে - ”হযরত আলীর সম্পর্ক আল্লাহর   সাথে  ঐরূপ   -   যেরূপ  সম্পর্ক  ছিল  আল্লাহর সাথে ইছা নবী আলাইহিস সালামের”।

এদের   আক্বীদা আর খৃষ্টানদের  আক্বীদা  এক। আল্লাহ ও   বান্দাকে   তারা   এক    মনে     করে।   তাদের    আরো বিশ্বাস     -   নবুয়ত    ও    রিসালাতের    ধারা    খতম   হয়ে  যায়নি। যেসব বুযর্গের সাথে লাহুতি জগত (উর্দ্ধজগত) সম্মিলিত  হয়,  তাঁরা   হলেন   নবী।   এই   নবীগণ   যখন  মানুষকে হিদায়াতের আহবান জানান, তখন তাঁদেরকে বলা    হয়    রাসুল।    এই    চরমপন্থী     মুফাদ্দালিয়া    গ্রুপ  থেকেই       অতীতে       নবুয়ত       ও       রিসালাতের       ভন্ড  দাবিদারদের উদ্ভব হয়েছিল। বর্তমানে কাদিয়ানী গ্রুপ এবং  দেওবন্দ  মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কাছেম   নানুতবীও কুরআনের  খতমে নবুয়ত  সংক্রান্ত    আয়াতটির এভাবে অর্থ করেছে - ”তিনি নবীগণের ভূষণ ও আফযল নবী - তাঁকে     শেষ      নবী     মনে      করা      জাহেলদের       কাজ” (তাহযীরুন্নাছ)।

৩।   ছারিগীয়া   শিয়া:        এই  গ্রুপ  ছারিগ   নামক  শিয়া নেতার  অনুসারী।  দ্বিতীয়  মুফাদ্দালিয়া  গ্রুপ  এবং  এই  তৃতীয় গ্রুপের মতবাদ  প্রায়  একই  রূপ। তবে  পার্থক্য শুধু এতটুকু  যে, দ্বিতীয় গ্রুপের মতে যে  কোন বুযুর্গের মধ্যেই   আল্লাহ   হুলুল  (প্রবেশ)   করতে  পারেন।    কিন্তু  ছারিগীয়ারা         এই      হুলুল     বা     প্রবেশ      নিম্ন     লিখিত পাঁচজনের    মধ্যেই   সীমাবদ্ধ   বলে    মনে   করে।   তাঁরা হলেন:   নবী  করিম  সাল্লাল্লাহু    আলাইহি   ওয়া  সাল্লাম, হযরত  আব্বাছ,  হযরত  আলী,    তাঁর  দুই  ভাই  হযরত জাফর ও হযরত আকিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম।

৪। বাজিইয়া শিয়া: চরমপন্থী ঘালী শিয়াদের চতুর্থ দল হলো বাজিইয়া গ্রুপ। বাজি  ইবনে  উইনুছ  নামের এক শিয়া   নেতার   অনুসারি     এরা    এদের    আক্বীদা   হচ্ছে: ”শুধুমাত্র   ইমাম  জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু  এর মধ্যেই  খোদায়ীত্ব   প্রবেশ করেছে  - অন্য কারও মধ্যে নয়।    তাদের   মতে     -    আল্লাহ    তায়ালা    এক   ব্যক্তির মধ্যেই  প্রকাশিত   হয়েছেন  মাত্র।  তবে তিনি দেহধারী  নহেন”।  তারা    বলে     -  ”ইমাম  জাফর  সাদেকের  পর অন্য  কোন  শিয়া ইমাম খোদা হতে পারবেন না। তবে তাদের নিকট ওহী অবতীর্ণ হবে এবং তাদের মেরাজও সংঘটিত হতে পারে”।

৫। কামিলিয়া   শিয়া: আবু কামিল  নামক জনৈক  শিয়া  নেতার অনুসারী এই দল। এজন্য তাদেরকে কামিলিয়া নামে  আখ্যায়িত  করা  হয়।    এদের  চরমপন্থী   আক্বীদা হচ্ছে ”আত্মা  এক  দেহ হতে অন্য দেহে প্রবেশ করতে পারে। কোন দেহ মরে গেলে বা ধবংস হয়ে গেলে তার আত্মা   অন্য  দেহ ধারণ করতে পারে”। তাদের  ধারণা  মতে   ”আল্লাহর   পবিত্র   আত্মা   প্রথমে   আদমের   মধ্যে  সন্নিবেশিত     হয়েছিল।     ক্রমান্বয়ে     শীশ     পয়গাম্বরের  মাধ্যমে    অন্যান্য   নবীগণের    মধ্যেও    আল্লাহর   পবিত্র আত্মা স্থানান্তরিত হয়েছে”। তারা বলে - ”যেসব সাহাবা হযরত আলীর খিলাফত স্বীকার করেননি - তারা সবাই কাফির   এবং  হযরত  আলীও   কাফির   -   কেননা  তিনি তাঁর ন্যায্য অধিকার দাবী করেননি”। (নাউযুবিল্লাহ)

এরা   অভিমানী   ও হতাশ  প্রেমিক  শিয়া। নেতার উপর অভিমান  করেই তারা  নেতার বিরুদ্ধে   কুফরী ফতোয়া জারি করে বসে আছে।

৬। মুগীরিয়া শিয়া: এই চরমপন্থী শাখাটি হলো  মুগীরা ইবনে    সাঈদ    আজারীর    অনুসারী।    এদের    আক্বীদা  নিম্নরূপ: (ক)  আল্লাহ  স্বশরীরী  স্বত্বা।  আল্লাহর আকার একজন  পুরুষের  আকারের   মত।  তাঁর   মাথায়   নূরের টুপি আছে। তাঁর ক্বলব আছে। সেখান থেকেই যাবতীয় হিকমত  উৎসারিত  হয়ে    থাকে।   (খ)  শয়তান  হযরত আবু  বকর  ও  হযরত  ওমরকে  কুফরী  করার  পরামর্শ  দিলে  তাঁরা  শয়তানের  পরামর্শ  অনুযায়ী  কুফরী  করে  বসে।   তখন     শয়তান    এই   বলে   বিদায়   নেয়   ”আমি  তোমাদের  থেকে  পৃথক  হয়ে  গেলাম”।  এই  মুগীরিয়া  শিয়াদের   মতে  হযরত  আবু  বকর   ও  হযরত  ওমরের কুফরী প্রসঙ্গেই নাকি কুরআনের নিম্ন আয়াতটি নাজিল হয়  মাছালুহুম   কামাছালিশ  শাইতন,   ইজ    ক্বলা   লিল  ইনছানিকফুর,    ফালাম্মা   কাফারা   ক্বলা   ইন্নী   বারিউম  মিনকা” অর্থাৎ - ”তাদের উপমা হলো শয়তানের ন্যায় -  যখন   সে   কোন  মানুষকে  বলে   -  তুমি  কুফরী  কর। যখন সে কুফরী করে বসে - তখন শয়তান বলে- আমি তুমা  হতে বিমুখ হলাম”। (গ) হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর পুত্র ইমাম হাসানের প্রপৌত্র মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ হচ্ছেন ভবিষ্যতের প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী। পর্বতমালায় এখনও অবস্থান করছেন।

৭।  জানাহিয়া  শিয়া:  হযরত   আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু এর   ভাই   শহীদ  জাফর  তাইয়ারের  পুত্র     আবদুল্লাহর নাতী - আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়ার অনুসারী এই দল। জাফর   তাইয়ার   রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু   এর   উপাধী   ছিল  ”জুল    জাহানাঈন”।    তারা     এজন্য   তাদের    পরিচিতি হিসেবে   জানাহিয়া   শিয়া      বলে    প্রচার   করে।   এদের আক্বীদা পঞ্চম দলের অনুরূপ: অর্থাৎ আত্মার স্থানান্তরে এরা   বিশ্বাসী।   তারা  বলে   -   ”আল্লাহর  আত্মা  নবীগণ হয়ে   হযরত   আলী   ও   তাঁর   তিন   পুত্রের   মধ্যে   এসে  সমাপ্ত   হয়েছে।   এ  ধারা   পূণরায়  হযরত  আলীর  ভাই জাফর  তাইয়ারের  বংশে  আবদুল্লাহ  ইবনে  মুয়াবিয়ার  মধ্যে স্থান লাভ করেছে। তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, বরং ইস্পাহানের একটি পাহাড়ে জীবিত অবস্থান করছেন”। এই চরমপন্থীরা কিয়ামতকে  অস্বীকার  করে এবং   সব  মৃতজন্তু  ও অন্যান্য  হারাম  বস্তুকে হালাল  বলে বিশ্বাস  করে।     (উল্লেখ্য      -     অকাট্য     দলীল      দ্বারা     প্রমাণিত হারামকে হালাল মনে করা কুফরী)

৮।  বয়ানিয়া  শিয়া:  চরমপন্থী  শিয়াদের  অষ্টম  গ্রুপের  নাম   বয়ানিয়া।   নজদের    বনু   তামীমের   বয়ান    ইবনে ছামআন - এর অনুসারী এই দল। এদের ধারণামতে - ”আল্লাহ  তায়ালা  একজন  মানুষের    আকৃতিধারী  এবং  আল্লাহর  আত্মা  প্রথমে  হযরত   আলীর   মধ্যে,  তারপর তাঁর  অন্য  স্ত্রীর  পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে   হানফিয়ার মধ্যে,  তারপর     তার     পুত্র     আবু      হাশেমের      মধ্যে      প্রবেশ করেছে”।    এরা    মুহাম্মাদ    ইবনে   হানফিয়াকে   ইমাম  মানে      -      ইমাম      হাসান      ও      হোসাইন      রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহুমাকে মানেনা।

৯।        মনসুরিয়া        শিয়া:        আবু        মনসুর        আজালীর  অনুসারীদেরকে  মনসুরিয়া  শিয়া  নামে  অভিহিত   করা  হয়।  এদের   আক্বীদা   হচ্ছে:  ”রিছালাতের  দরজা  বন্ধ  হবে    না।    শরীয়তের    বিধি     বিধান   সবই     উলামা   ও ফক্বিহগণের মনগড়া। বেহেস্ত- দোযখ বলতে কোন বস্তু নেই”।  ইমাম বাকের    রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহুর  পর তাদের ইমাম হচ্ছেন আবু মনসুর।

১০।  গামামিয়া  শিয়া:   এদের   আক্বীদা   হচ্ছে-   আল্লাহ তায়ালা   বসন্তকালে  মেঘ   মালায়  ভর   করে   পৃথিবীতে অবতীর্ণ  হন   এবং   সমগ্র  পৃথিবী  ভ্রমণ     করে   পুনরায় আকাশে আরোহন  করেন।  এ  কারনেই বসন্ত  মৌসুমে পৃথিবী ধনধান্যে, ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে উঠে।

১১।   তাফভিজিয়া   শিয়া:    এদের   আক্বীদা    ও   বিশ্বাস হচ্ছে:    ”আল্লাহ    তায়ালা    হযরত    মুহাম্মাদ    সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লামকে সৃষ্টি   করে তাঁর  হাতে   সৃষ্টির ভার   অর্পন   করেছেন।    তিনি   নিজে    হচ্ছেন   পৃথিবীর  অবশিষ্ট বস্তুরাজীর মহা স্রষ্টা”।

এদের কেউ কেউ আবার হযরত আলীকে পৃথিবীর স্রষ্টা বলে  বিশ্বাস  করে। আবার কেউ   বিশ্বাস    করে -  ”নবী করিম    সাল্লাল্লাহু    আলাইহি    ওয়া    সাল্লাম    ও    হযরত  আলীকে   যৌথভাবে  পৃথিবী  সৃষ্টির  দায়িত্ব   অর্পন  করা হয়েছে।”   এ   কারণেই  তাদেরকে  তাফভিজিয়া    শিয়া  বলা হয়। তাফভিজ অর্থ - নিজের ক্ষমতা অন্যের উপর ন্যাস্ত করা।

১২। খাত্তাবিয়া   শিয়া: চরমপন্থী  শিয়াদের   এই  দলের নেতা  হলো  আবুল   খাত্তাব   আসাদী।   এদের   আক্বীদা  হচ্ছে-

”নবীগণ    হলেন     প্রকৃত    ইমাম     এবং     আবুল    খাত্তাব একজন     নবী।     অন্যান্য      নবীগণ     আবুল     খাত্তাবের  আনুগত্য       করাকে       মানুষের        উপর         ফরয        করে দিয়েছেন”।  আর  এক কদম অগ্রসর  হয়ে এরা  বলে - ”সমস্ত ইমামগণই    খোদা, ইমাম হাসান    - হোসাইনের পুরুষ সন্তানগণ সকলেই আল্লাহর সন্তান ও প্রিয়। ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খোদা। তাদের নেতা আবুল  খাত্তাব হযরত আলী ও ইমাম জাফর সাদেকের চেয়েও উত্তম”।

এরা        এদের        স্বপক্ষীয়        লোকদের        পক্ষে        এবং  বিপক্ষগণের  বিরুদ্ধে  মিথ্যা স্বাক্ষ্য  প্রদানকে  বৈধ  মনে করে।      তাদের      নেতা       নিহত       হওয়ার      পর      এরা  কয়েকগ্রুপে    বিভক্ত     হয়ে     পড়ে।     এক    গ্রুপ    বলে- ”আবুল খাত্তাবের পর মা'মার তাদের ইমাম”। আল্লাহর ইবাদতের ন্যায় তারা  মা'মার - এর ইবাদত শুরু করে দেয়। তাদের মতে - ”দুনিয়ার ধন - সম্পদ ও অন্যান্য নেয়ামতসমূহই বেহেস্ত এবং অমঙ্গল ও মুসিবত সমূহই দোযখ”।  এরা  হারাম  বস্তুকে  হালাল  মনে   করে   এবং ফরয  সমূহ   বর্জন   করে।    তাদের  অন্য  গ্রুপের  দাবি   হলো - আবুল খাত্তাবের হত্যার পর বাজি' নামক ব্যক্তি তাদের    ইমাম।     তাদের      বিশ্বাস:    প্রত্যেক     মুমিনের নিকটই   ওহী  আসে”। তাদের তৃতীয়   গ্রুপের ধারণা -  ”আবুল খাত্তাবের পর তাদের ইমাম ওমর ইবনে বয়ান আজালী”। (আমাদের দেশের কিছু ভন্ড ফকির তাদের অনুসারী)।

১৩।    মা'মারিয়া   শিয়া:   এ  দল  আবুল    খাত্তাবের   পর মা'মারকে     তাদের     নেতা     বলে     বিশ্বাস    করে    এবং শরীয়তের  যাবতীয় আইন  কানুন তার উপর সোপর্দ  - বলে  আক্বীদা পোষণ করে। এরা বলে - ”ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু ছিলেন   নবী -   তারপর  নবী ছিলেন  আবুল  খাত্তাব।  এরপর   তাদের   নেতা   মা'মার হচ্ছেন     শেষ  নবী।  তিনি  যাবতীয়    বিধি  নিষেধ   তুলে দিয়েছেন       এবং       শরীয়তের       বাধ্যবাধকতা       রহিত  করেছেন   ”।   এরা   মূলত:    দ্বাদশ    (ইসনা   আশারিয়া) গ্রুপেরই একটি উপশাখা মাত্র।

১৪।      গোরাবিয়া      শিয়া:      এই      চরমপন্থী      শিয়াদের  নামকরণ হয়েছে ”গোরাব” বা কাক শব্দ থেকে। এদের দৃঢ় বিশ্বাস - ”এক কাক যেমন আরেক কাকের সদৃশ্য, এক মাছি   আর  এক  মাছির সদৃশ্য -   তদ্রুপ শারিরীক গঠনে   হযরত   আলী     রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু     ছিলেন   নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদৃশ্য। আল্লাহ  তায়ালা     হযরত     জিব্রাঈলকে    হযরত    আলীর    নিকট প্রেরণ      করেছিলেন।     শারিরীক     গঠনের        সাদৃশ্যের কারণে জিবরাঈল ভূল করে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর  নিকট রিছালাতের দায়িত্ব অর্পন   করে  ফেলেছেন”।   (নাউযুবিল্লাহ)   এ    কারণেই গোরাবিয়া       শিয়া      সম্প্রদায়       হযরত       জিবরাঈলকে  অভিসম্পাত  (লানত)  দিয়ে   থাকে।  তাদের  এক   কবি বলেন:   ”জিবরাঈল   আমিন    গলদ    করে   রিছালাতকে আলী   হায়দার   থেকে  অন্যত্র  নিয়ে  গেছেন”।   হযরত   গাউসুল  আযম  রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু গুনিয়াতুত ত্বালেবীন গ্রন্থে এদেরকে ইসলামের ইয়াহুদী সম্প্রদায় বলেছেন।

১৫।  জুবাবিয়া  শিয়া:  জুবাব  অর্থ   -  মাছি।   এক  মাছি অন্য   মাছির   সদৃশ।   তারা   বলে   -   ”হযরত   মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু    আলাইহি    ওয়া    সাল্লাম    ছিলেন    আল্লাহ    -  সদৃশ। তবে তিনি নবী ছিলেন”।

আল্লাহ      তাদের     ধবংস     করুক।     জুবাব    বা     মাছির সাদৃশ্যতার উপমা নবী ও আল্লাহর ক্ষেত্রে জুড়ে দেয়ার করণে এই চরমপন্থী    শিয়াদেরকে জুবাবিয়া শিয়া বলা হয়।

১৬।  যাম্মিয়া  শিয়া:  'যাম্মুন'   আরবী  শব্দ।  অর্থ    হলো  বদনাম আরোপ  করা।    এই সম্প্রদায়ের  শিয়াগণ  নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর উপর এই অপবাদ আরোপ করে যে, ”হযরত আলী হচ্ছেন খোদা এবং   তিনি   হযরত  মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি  ওয়া  সাল্লামকে   তাঁর   দিকে   লোকদেরকে   আহবান     করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা না করে নিজের জন্যই, আল্লাহ বলে দাবী করে বসলেন।

তাদের  মধ্যে    সমঝোতা  স্বরূপ   নবী  করিম   সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া   সাল্লাম  এবং   হযরত  আলী  রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উভয়কেই  আল্লাহ বলে স্বীকার  করে নেয়া   হয়। তবে   এক   নম্বর   আর   দুই   নম্বর   নিয়ে   তাদের   মধ্যে  মতভেদ   থেকে  যায়।  তাদের  মধ্যে  কেউ   কেউ   পাক পাঞ্জাতন (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু   আলাইহি ওয়া   সাল্লাম), হযরত আলী, ফাতিমা,  হাসান  ও হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা        আনহুম)        খোদা        বলে        বিশ্বাস        করে।  (নাউযুবিল্লাহ)।

১৭।      ইসনাইনিয়া      শিয়া:        এরা       যাম্মিয়া      গ্রুপের  উপশাখা।  তারা  নবী  করিম  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি    ওয়া সাল্লামকে   যাম্মিয়াদের   তফসিল     মতে    আল্লাহ     বলে আক্বীদা     পোষণ     করে।     তারা     যাম্মিয়াদের     দ্বিতীয়  উপশাখা বলে ইসনাইনিয়া নামে খ্যাত।

১৮।       খামছিয়া       শিয়া:      এরা      যাম্মিয়াদের       তৃতীয় উপশাখা।   এরা   পাক  পাঞ্জাতনকে    ইলাহ   বা   আল্লাহ বলে  স্বীকার    করে।  এ  জন্য  এদের   পৃথক    নামকরণ করা হয়েছে খামছিয়া বা পঞ্চ খোদায় বিশ্বাসী।

১৯।  নাসিরিয়া   শিয়া:  এই   চরমপন্থী   শিয়াদের  অপর নাম আলভী শিয়া। এরা সিরিয়ার হিমস, হলব ও উত্তর সিরিয়ায় বসবাস করে। এদের আক্বীদা হচ্ছে - ”আল্লাহ তায়ালা     হযরত    আলী    ও   তাঁর   বংশধরগণের   মধ্যে  প্রবেশ  করেছেন”।   তবে এরা   আল্লাহ অর্থে আমীরকে রূপক হিসাবে বুঝায়।

২০।  ইসহাকিয়া   শিয়া:   ইসহাক  নামীয়   জনৈক   শিয়া নেতার  অনুসারী  এই দলটি। এরা বলে  - ”এই পৃথিবী অতীতে     কখনও      নবী     থেকে     শূন্য       ছিলনা       এবং ভবিষ্যতেও শূন্য থাকবেনা।    আল্লাহ  -  হযরত  আলীর মধ্যে আছেন”। (কাদিয়ানিরাও একথাই বলে)।

২১। ইলবাইয়া শিয়া:  ইলবা  ইবনে আরওয়া আসাদীর অনুসারীগণকে ইলবাইয়া শিয়া বলা হয়। এদের মতে - ”হযরত    আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু  হলেন  খোদা    এবং  মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উত্তম। মুহাম্মাদ     সাল্লাল্লাহু     আলাইহি     ওয়া     সাল্লাম    হযরত  আলীর            হাতে            বাইয়াত            গ্রহণ            করেছেন”।  (নাউযুবিল্লাহ)।

২২।  রাজজামিয়া শিয়া: এই সম্প্রদায় মুহাম্মাদ  ইবনে  হানফিয়া, তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ - এর পুত্র আলী,  তার পুত্র   আবুল  মনসুর  কে  ইমাম  বলে   মান্য  করে।   এরা ইতিহাসখ্যাত আবু  মুসলিম খোরাসানীকে খোদা    বলে স্বীকার   করে।    হারামকে   হালাল    বলে   স্বীকার    করা   এদের   আক্বীদা।  (আবু  মুসলিম খোরাসানী আব্বাসীয়  হুকুমত প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছিল - লেখক)। 

২৩।   মুকান্নাইয়া    শিয়া:    ইমাম   হোসাইন   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু-  এর   পর  মুকান্নাকে  এরা  খোদা  বলে     স্বীকার করে।

২৪।  ইমামিয়া শিয়া: ”ইমামত”  মতবাদে বিশ্বাসী বলে এদেরকে   ইমামিয়া  শিয়া   বলা   হয়।   এদের  বিশ্বাস  - ”নবুয়াত   ও  রিসালাত”   এর  মধ্যে   হযরত  আলী   নবী  করিম      সাল্লাল্লাহু     আলাইহি     ওয়া      সাল্লামের      সাথে অংশীদার।  এই    ফির্কা  খিলাফতে  বিশ্বাসী    নয়।  এরা বলে   -   ”হযরত  আলী    রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু  নবী   করিম সাল্লাল্লাহু        আলাইহি        ওয়া        সাল্লাম        কর্তৃক       তাঁর উত্তরাধিকারী  নিযুক্ত  হয়েছিলেন  -   কিন্তু   হযরত   আবু  বকর ও হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা খিলাফত বা নির্বাচন পদ্ধতি আবিষ্কার করে জনগণের রায়ে খলিফা হয়ে  যান।  তাদের  মতে ইমামত বা ঐশী    মনোনয়নই ইসলামের        সঠিক         পদ্ধতি        -         খিলাফত           হলো প্রতারণামূলক   নির্বাচন   পদ্ধতি।”  (দেখুন   -  ”মাওলার  অভিষেক”    বইটি)।     এই     ফির্কাটি     পুনরায়     ৩৫     টি উপদলে বিভক্ত। 

August 23, 2017

শিয়া ফির্কার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও আকিদা

প্রথম পর্ব 
============================
শিয়া ফির্কার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও আক্বীদা: 
====== ======================
অধ্যক্ষ এম এ জলিল রহঃ





শিয়া     সম্প্রদায়    -    যারা    হযরত     আলী    কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহু  এর  স্বপক্ষীয়  ও  অনুসারী  বলে  দাবি  করে  এবং  তাঁকে  মহব্বত  করে।  তারা  মূলত:  চার  ফের্কায়  বিভক্ত।
যথা: 

১। প্রথম যুগের আদি শিয়া বা মুখলিসীন শিয়া:
হযরত   আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু   এর  খিলাফতকালের (৩৫-৪০হিজরী)     মুহাজির,     আনসার     এবং     তাঁদের  অনুসারী তাবিয়ীগণ এই দলের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। তাঁরা হযরত আলীর   ন্যায্য  প্রাপ্য   ও মর্যাদার স্বীকৃতি   দাতা ছিলেন।  পক্ষান্তরে   তাঁরা  অন্য   কোন  সাহাবীকে  ছোট করে  দেখানো   কিংবা তাঁদেরকে  গালিগালাজ করা  বা কাফির  মনে  করা  -  ইত্যাদি  দোষ-  ত্রুটি  হতে  সম্পূর্ণ  মুক্ত      ছিলেন।      কুরআনের      ব্যাখ্যায়      তাঁরা      হযরত  আলীকেই   অনুসরণ করতেন। বাইআতুর রিদওয়ানের মধ্যে শরীক চৌদ্দশত সাহাবীর মধ্যে আটশত সাহাবীই সিফফীনের যুদ্ধে হযরত আলীর পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। তন্মধ্যে তিনশত সাহাবী শাহাদত বরণ করেন। অবশ্য কোন   কোন    সাহাবী    উক্ত    যুদ্ধ   থেকে    নিজেদেরকে  দূরত্বে  রেখেছিলেন -   শুধু সাবধানতা অবলম্বন করার    জন্য।    তাঁরা    এসব    ঝামেলায়    নিজেদেরকে    জড়িত  করেননি। এঁদের মধ্যে অন্যতম  ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।

জঙ্গে       জামাল      ও     জঙ্গে     সিফফীনে     হযরত      আলী রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু      ছিলেন   সত্যের   উপর    প্রতিষ্ঠিত। অনেকেই   পরে    হযরত   আলী  রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু  এর  সাথে      যোগদান      না      করার      জন্য     দু:খও       প্রকাশ করেছিলেন।  শিয়া  শব্দটি  কখন  থেকে  প্রচলিত  হয়  -  সে সম্পর্কে শাহ আবদুল আজিজ দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি   তোহফা ইসনা আশারিয়া গ্রন্থে বলেন:    ৩৭ হিজরী সনে শিয়া বা ”শিয়ীয়ানে আলী” শব্দটি প্রচলিত হয়। এই দলের কোন পৃথক মতবাদ বা নিজস্ব আক্বীদা ছিলনা।    তাঁরা    সর্ব   বিষয়ে   হযরত   আলী    রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে অনুসরণ করতেন।

২। তাফলিদিয়া শিয়া:
এই সম্প্রদায়ভূক্ত  শিয়াগন   সমস্ত  সাহাবায়ে  কেরামের উপর হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বেশী ফযিলত বা মর্যাদা   দিতেন  বলে  এই   নামকরণ করা হয়।  কিন্তু তাই বলে অন্য কোন সাহাবীকে গালি দেয়া বা কাফির বলা     কিংবা     তাঁদের    প্রতি    বিদ্বেষ    পোষণ     করা      -  কোনটাই  এঁদের মধ্যে  ছিলনা। এই সম্প্রদায়ের   মধ্যে অন্যতম    উল্লেখযোগ্য    ব্যক্তিত্ব    ছিলেন     আরবী     নাহু বিদ্যার    জনক    আবুল      আসওয়াদ     দোয়ায়লী।    তাঁর সাগরেদ  আবু   সাঈদ  ইয়াহইয়া,  সালেম  ইবনে    আবু   হাফসা     (যিনি  ইমাম  বাকের  রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু  এবং   ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু    থেকে  হাদীস বর্ণনা         করেছেন),       বিখ্যাত       অভিধান       ”ইসলাহুল  মানতিক” প্রণেতা আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক  - প্রমুখ।

পরবর্তীকালের  বিখ্যাত   সূফী  সাধক  আল্লামা   আবদুর রহমান জামী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি এর গ্রন্থাবলীতেও তাফদিলী মতবাদের কিছুটা আভাস পাওয়া  যায়। এই তাফদিলী   সম্প্রদায়ের  প্রকৃত  আত্মপ্রকাশ   ঘটে    প্রথম সম্প্রদায় মুখলিসীন শিয়াদের দুই কি তিন বৎসর পরে অর্থাৎ ৩৯ বা ৪০ হিজরী সনে।

বিশ্বস্ত     বর্ণনামতে      দেখা     যায়      যে,       হযরত     আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু        আনহু      তাঁর       খিলাফত      কালেই      টের  পেয়েছিলেন  যে,  কিছু  কিছু  লোক  তাঁকে  হযরত  আবু  বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু   আনহু    এর  উপর  মর্যাদা   দিচ্ছেন।    সাথে সাথে তিনি এ আক্বীদা পোষণ করা থেকে বারণ করেন এবং বলেন  -  ”যদি আমি কারও মুখে  একথা শুনি যে, হযরত    আবু  বকর  ও  হযরত  ওমরের  উপর   আমাকে মর্যাদা   দেওয়া    হচ্ছে     -    তাহলে   আমি    তাকে    আশি দোররা   মারবো”।   কোন  কোন  বর্ণনায়  দশ  দোররার কথা উল্লেখ আছে।

৩। ছাব্বাইয়া বা তাবাররাইয়া শিয়া ফির্কা:
এই সম্প্রদায়ভূক্ত শিয়াগণ সালমান ফারসী, আবু   যার  গিফারী,   মিকদাদ,  আম্মার ইবনে ইয়াসির  রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম      -      প্রমুখ        সাহাবীগণ      ব্যতীত      অন্য       সব সাহাবীগণকেই  গালিগালাজ   দিয়ে  থাকে।  এমনকি  -   তারা     উক্ত     মুষ্টিমেয়     কয়েকজন      ছাড়া     বাকি     সব  সাহাবীকেই কাফির ও মুনাফিক বলে বিশ্বাস করে এবং গালিগালাজ  করে    থাকে।  তারা   এ   কথাও  বলে   যে, বিদায়ী     হজ্জ্ব     সমাপন      করে    নবী     করিম    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া   সাল্লাম মদীনা শরীফে প্রত্যাবর্তনকালে পথিমধ্যে      ”গাদীরে      খুম”     নামক      স্থানে     সাহাবায়ে কিরামকে    একত্রিত    করে    হযরত    আলী    রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু  এর   সম্পর্কে বলেছিলেন  -  ”আমি  যার মাওলা, আলী ও তার মাওলা”।

তারা মনে  করে-  নবী  করিম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি   ওয়া সাল্লাম     এই   ভাষণের    দ্বারা    হযরত   আলীকেই     তাঁর পরবর্তী      খলিফা      নিয়োগ      করে      গেছেন।      সুতরাং  পরবর্তীকালে   ঐ   সময়ে   উপস্থিত   সাহাবীগণ   হুযুরের  ইন্তিকালের    পর    নাকি    প্রতিশ্রুতি   ভঙ্গ     করে    হযরত আলীকে  খলিফা   নির্বাচিত  না  করে   বরং  হযরত  আবু বকর সিদ্দীকের হাতে বাইয়াত করে   সকলেই মুরতাদ শ্রেণীর     কাফির     হয়ে     গেছেন     (নাউযুবিল্লাহ)।     এই  সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয় হযরত আলীর খিলাফতকালেই। ইয়েমেনের সানা  প্রদেশবাসী    কুখ্যাত ইহুদি  মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবার  কুমন্ত্রণা ও উস্কানীতে এই বদ আক্বীদার সৃষ্টি  হয়। এ প্রসঙ্গে সোয়াইদ  নামক জনৈক ব্যক্তি হযরত আলীর খিদমতে এসে বললেন যে,  আমি একটি সম্প্রদায়কে  দেখেছি - ”তারা হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে গালমন্দ   করছে।    আপনি    হয়তো     অন্তরে   অন্তরে   এ  ধারণা      পোষণ     করেন     বলেই     তারা     এই      প্রকাশ্য গালমন্দের দু:সাহস   দেখাচ্ছে”।  একথা শুনেই হযরত  আলী    রাদ্বিয়াল্লাহু    আনহু    লজ্জায়     নাউযুবিল্লাহ     বলে আমাকে  নিয়ে  কুফার  মসজিদে  প্রবেশ  করে  সমবেত  মুসল্লীদের উদ্দেশ্য এক সারগর্ভ ভাষণে বললেন: ”কত হতভাগা   ঐ  সব  লোক  -   যারা  নবী   করিম   সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর উযির ও সাহাবী, কুরাইশ  সর্দার  ও মুসলমানদের পিতৃতুল্য দুই সাহাবী    সম্পর্কে কটুক্তি  করছে। আমি এসব লোকের সংস্পর্শেও নেই।  তাঁরা     উভয়ে     আজীবন     রাসুলে     পাকের     নিত্যসঙ্গী  ছিলেন।  ইনতিকালের  সময়  পর্যন্ত  তিনি  তাঁদের  প্রতি  সন্তুষ্ট      ছিলেন।      ভালবাসা,      বিশ্বস্ততা      ও        আল্লাহর নির্দেশাবলী     প্রতিষ্ঠায়   তাঁদের    নিরলস   প্রচেষ্টা   দিয়ে তাঁরা নবী  করিম সাল্লাল্লাহু   আলাইহি  ওয়া  সাল্লাম কে  সাহচর্য দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রতি ভালবাসাই ইবাদত  তুল্য    এবং   তাঁদের  প্রতি   বিদ্বেষ  পোষণ  করাই  ঈমান থেকে খারিজ হওয়ার সমতুল্য।”

এ   কথা   বলেই   তিনি   আবদুল্লাহ   ইবনে   সাবা   -   এর  বিরুদ্ধে  সৈন্য   প্রেরণ  করেন।   আবদুল্লাহ   ইবনে  সাবা ইরাকের    মাদায়েনে    গিয়ে    আত্মগোপন    করে।    এই  ছাব্বাইয়া    গোত্রের    শিয়ারা    প্রথম    শ্রেণীর    শিয়াদের  থেকে   নিজেদেরকে  পৃথক   করার   উদ্দেশ্যে   প্রতারণা  করে    নিজেদের    নাম    রাখে    ”আহলে    সুন্নাত    ওয়াল  জামাত”। এটা ছিল তাদের আত্মরক্ষার  ধোঁকাবাজী  ও প্রতারণামূলক কাজ। আজকালও দেখা  যায়  যে, কোন সম্প্রদায়   ওহাবী   বা    দেওবন্দী   অথবা   মওদুদী    বলে পরিচিত হয়ে গেলে তারা নিজেদেরকে ”আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত” বলে আত্মপরিচয় দেয় এবং ঐ নামে প্রতারণামূলক প্যারালাল সংগঠনও দাঁড় করে   ফেলে।  এটা    তৃতীয়    শ্রেণীর    শিয়াদের    মতই    প্রতারণামূলক  কাজ। আমাদের দেশের চুনকুটির সদর  উদ্দীন চিশতী ও তার অনুসারীরা ছাব্বাইয়া শিয়াদের অনুসারী। এরা খুবই জঘন্য মুনাফিক।

৪। ঘালী বা চরমপন্থী শিয়া:
এই      ফির্কার      শিয়াদের     উদ্ভব      হয়        হযরত     আলী রাদ্বিয়াল্লাহু     আনহু   এর    খিলাফতকালেই।   ইহুদি   চর আবদুল্লাহ   ইবনে  সাবা’র   ইঙ্গিতেই  এই   শাখার   সৃষ্টি   হয়। এই চরমপন্থী শিয়াদের আক্বীদা ও বিশ্বাস হলো - ”হযরত      আলী       -ই-      খোদা”     (নাউযুবিল্লাহ)।     এই  মতবাদের   প্রধান   প্রবক্তা   ছিল   ইবনে    আবিল    হদিস  নামীয় জনৈক কবি।  এই  আক্বীদাপন্থীর পরিচয়  পেলে হযরত  আলী   রাদ্বিয়াল্লাহু  আনহু    সাথে   সাথেই  তাকে কতল   করে   ফেলতেন।   এই  শেষোক্ত  ফির্কার    লোক যদিও   পূর্বের  তিনটি  দলের  তুলনায়   কম  ছিল  -   তবু  তারা    পরবর্তীকালে     চব্বিশটি     শ্রেণীতে   বিভক্ত   হয়ে পড়ে। (সূত্র: তোহফা ইসনা   আশারিয়া - শাহ  আবদুল আজিজ)