মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৭

সাহাবীদের গালি দিলে ঈমান থাকবেনা

⭐সাহাবীদের গালি দিলে ঈমান থাকবেনা⭐
▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶◀◀◀◀◀◀◀◀◀◀◀
↘আল্লাহ তাআলা কোরআন শরীফে বলেন-
رضي اللّٰه عنهم ورضوا عنه
আল্লাহ তাদের উপর রাজী হলেন,তারাও আল্লাহর উপরে রাজী হলেন।
সুত্র:-আল-বায়্যিনা,৯৮:৮;
বুঝা গেল সাহবীদের উপর আল্লাহ রাজী, আর সাহাবীরা আল্লাহর উপরে রাজী।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের কিছু ভাই হযরত আলী (রা) ও আমিরে মোআবিয়া (রা) এর মধ্যকার ইজতিহাদী মতবেদকে কেন্দ্র করে আমিরে মোআবিয়া (রা) কে গালিগালাজ করে, যা সত্যিই দুঃখজনক।
অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
↘ আমার সাহাবীদের মতবেদ রহমত স্বরুপ।
আফসোস, সাহাবী বানালেন নবিজী আর হিসেব নিচ্ছি আমরা!!!
এজন্য আল্লাহর নবী
বলেছেন-
لا تسُبّوا أصحابي،فلو أنّ أحدكم انفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مدّ أحدهم،ولا نصيفه
আমার সাহাবাদেরকে গালি দিয়োনা।যদি তোমাদের মধ্য থেকে কেউ উহুদ পাহাড় বরাবর স্বর্ণ ব্যায় করে দাও তবুও তাদের কোন একজনের সের বা তার অর্ধেক বরাবর পৌছতে পারবেনা।
সুত্র:- সহীহ বুখারী-কিতাুব ফাদায়েলীস সাহাবা,হাদীস নং ৩৪৭০;
মুসলিম-কিতাবু ফাদায়েলীস সাহাবা,হাদীস নং ২৫৪০;
তিরমিযি-কিতাবুল মানাকেব,হাদীস নং ৩৮৬১;
আবু দাউদ-কিতাবুস সুন্নাহ,হাদীস নং ৪৬৫৮;
↘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لا تمسُّ النار مسلما رآني او ورأي من رآني
সে মুসলমানকে জাহান্নামের আগুন কখনো স্পর্শ করবেনা যিনি আমাকে দেখেছেন অথবা আমার দ্রষ্টাদের (সাহাবীদের) দেখেছেন।
সুত্র:-তিরমিযি -কিতাবুল মানাকিব,হাদীস নং ৩৮৫৮;
বুখারীর-তারিখুল কাবীর, হাদীস নং ৩০৮২;
কিন্তু দুঃকজনক বিষয় হলো আজকে আমাদের কিছু ভাইয়েরা সাহাবী ইজতিহাদী বিষয়কে উপলব্দি না করে তাদের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই বলছে-
অথচ
↘আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
اختلاف أصحابي لكم رحمة
আমার সাহাবীদের মতবেদও তোমাদের জন্য রহমত স্বরুপ।
সুত্র:-বায়হাকী-আল মাদখাল আলাস সুনানিল কুবরা ১/১৬২,হাদীস নং ১৫২;
আল কুযায়ী-মসনাদুশ শিহাব ২/২৭৫,হাদীস নং ১৩৪৬;
ইবনে আব্দিল বার-আত তামহিদ ৪/২৬৩;
খতিবে বাগদাদী-আল কিফায়া ফি ইলমির রাওয়াইয়্যাহ ১/৪৮;
দায়লমী-মুসনাদুল ফিরদাউস ৪/১৬০, হাদীস নং ৬৪৯৭;
আর যারা এরপরও সাহাবাদের গালি দেয় গাদের সম্পর্কে
↘নবীজি বলেছেন-
اذا رأيتم الّذين يسبُّوا أصحابي فقولوا لعنةُ اللّٰه علي شرِّكم وفي رواية فلعنوهم
যখন তোমরা সেই লোকদের দেখবে যারা আমার সাহাবায়ে কিরামকে ভালমন্দ বলছে,তখন তোমরা বল,তোমাদের মন্দের দরুন তোমাদের উপর আল্লাহর লানত হোক।অন্য বর্ণনায় এসেছে তাদের লানত করিও।
সুত্র:-তিরমিযি-কিতাবুল মানাকিব,হাদীস নং ৩৮৬৬;
আহমদ বিন হান্বল-ফাদায়েস সাহাবা, হাদীস নং ৬০৬;
তাবরানী -মুজামুল আওসাত ৮/১৯০-১৯১,হাদীস নং ৮৩৬৬;
↘হাদীস শরীফে নবিজী আরো বলেছেন-
يجيئُ في آخر الزّمان قومٌ يسبّون أصحابي فان مرضوافلا تعودهم،وإن ماتوا فلا تشهدوهم،ولا تناكحوهم،ولاتوارثوهم،ولا تسلموا عليهم،ولا تصلُّوا
عليهم
শেষ জামানায় এমন এক সম্প্রদায় আসবে,যারা আমার সাহাবাদের ভালমন্দ বলবে,এমতাবস্হায় (এসব লোক) যদি মারা যায় তাদের জানাজায় অংশগ্রহন করিওনা এবং তাদের সাথে বিবাহ শাদী করিওনা।তাদের ওয়ারীশ বানিওনা,তাদেরকে সালাম দিবেনা এবং তাদেরকে দোয়াও করবেনা।
সুত্র:-খতীবে বাগদাদীর-তারিখে বাগদাদ ৮/১৪৩,হাদীস নং ৪২৪০;
তাই নবিজী আরো বলেছেন-
তোমরা আমার সাহাবাদের মন্দ বলিওনা,কারন-
فلمقام أحدهم ساعةً،خيرٌمن عمل أحدكم عمره
তাঁদের আমলের এক মুহুর্ত তোমাদের সারা জীবনের আমল অপেক্ষা উত্তম।
সুত্র:-ইবনে মাজাহ-মুকাদ্দামাহ, হাদীস নং ১৬২;
ইবনে আবি শয়বাহ-মুসান্নাফ,হাদী নং ৩২৪১৫;
শিক্ষনীয়:-সাহাবীদের ইজতিহাদী মতবেদ সমুহে উম্মতের চুপ থাকাই শ্রেয়।
অন্যথায় সহাবীদের মন্দ বলার কারনে সাথে সাথে বেঈমান হয়ে যাবে।
আল্লাহ পাক সকলকে বুঝার তওফিক দান করুক আমিন
ফেইসবুকে আমি

কানযুল ঈমান এপস ইনস্টল করুন

কানযুল ঈমান এখন এপ আকারে
===================
ডঃ আব্দুল বাতেন মিয়াজী
▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶▶
[লিংকটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন]
কানযুল ঈমান এপস
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল 'আলামীন ওয়াস সালাতু ওয়াসসালামু 'আলা রাসূলিল্লাহিল কারীম ﷺ।
আ'লা হযরত ইমাম আহমেদ রেজা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি অনুদিত পবিত্র কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুবাদ "কানযুল ঈমান" কে এপ আকারে পাবলিশ করলাম। মহান রবের কাছে অসংখ্য শুকরিয়া যে তিনি তাঁর প্রিয় হাবীব ﷺ- ওনার উছীলায় আমাকে এই মহান দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন। আমার সাথে অনেক আশেকে রাসূল এ মহৎ কাজে শরীক হয়েছেন। আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় বন্ধুগণের নেক নজরে যেন আমাদের এই মহান কার্যকে কবুল করেন। আমীন।
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই www.kanzulimaan.com এর উদ্যোক্তাদের। তাদের ওয়েবসাইটে কানযুল ঈমানের টেক্সট থাকায় আমাদের পরিশ্রম অনেকটা কমে গিয়েছে। তবে এর মাঝে টাইপিংএ কিছু ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। সময়ের অভাবে আমরা পুরো ৩০ পারা প্রুফ রীডিং করতে পারিনি।
ইনশাআল্লাহ,
পর্যায়ক্রমে তা করা হবে এবং সুদূর ভবিষ্যতে আপনাদের কাছে একটি নির্ভুল কানযুল ঈমান তুলে ধরবো।
১১৪ টি সুরার ক্যালিগ্রাফি ডিজাইন করে এই মহৎ কাজের বিশাল আনজাম দিয়েছেন তানজানিয়াতে বসবাসরত আমাদের এক প্রবাসী ভাই, নাজমুল হক্ব। অন্যান্য কাজে অনেকেই এর সাথে সম্পৃক্ত। তাদের নাম উল্লেখ না করলেও মহান আল্লাহ পাক তাদের সবাইকে এর জন্য উত্তম প্রতিদান দিবেন।
এখনো যেভাবে আপনি সহযোগিতা করতে পারেনঃ
==========================
১। পারা বা সুরা হিসেবে ভাগ করে নিয়ে একেক জন একেক সুরা বা পারা প্রুফ দেখে সাদকায়ে জারিয়ায় অংশ নিতে পারেন।
২। যারা হাফেযে কুরআন আছেন, তাদেরকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করবো, আরবি এবারতগুলো ভালো করে দেখে দিতে। আমি সুরা ইয়াসীনের হাফেয, সেটি এর মধ্যেই দেখেছি। আলহামদুলিল্লাহ, তাতে কোনও ভুল নেই।
৩। আপাতত সুরা হিসেবে সাজিয়েছি। তবে এর সাথে পারারও উল্লেখ রয়েছে যাতে সহজে পারা ও সুরার অবস্থান নির্ণয় কয়া যায়। ইনশাআল্লাহ সুদূর ভবিষ্যতে পারার সূচিও দেয়া হবে। কেউ চাইলে সরাসরি পারাতে যেতে পারবেন। (অবশ্য তা করা আছে। সময়ের স্বল্পতার কারণে আমি সেগুলোকে সূচিতে এড করিনি।)
৪। যে কেউ চাইলে ইচ্ছে মতো সূচির মাধ্যমে কাংখিত সুরায় যেতে পারবেন, আবার চাইলে এক সুরা থেকে পরের সুরায় কিংবা পূর্বের সুরায় যেতে পারবেন। এর জন্য previous / next button ব্যবহার করতে হবে। আর ডানে কিংবা বামে টেনে নিলে (swipe করলে) সুরার পূর্ববর্তী/পরবর্তী অংশে যেতে পারবেন। কিছুক্ষণ ব্যবহার করলেই এসব ব্যাপারগুলো বুঝে ফেলবেন।
৫। "নূরনবী " এর মতো এখানেও ফেসবুক লগিনের ব্যবস্থা রেখেছি। যাতে আপনারা সহজেই লিংকটি ফেসবুক বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
৬। নূরনবী এর তুলনায় কানযুল ঈমানে বেশ কিছু নতুনত্ব আনা হয়েছে।
৭। পূর্বের মতো এখানেও কপি করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর জন্য স্ক্রীনে কিছুক্ষণ চেপে ধরতে হবে। কিছু কিছু মোবাইলে কপি সাপোর্ট না-ও করতে পারে।
সর্বশেষ সবার পরামর্শ এবং দোয়া কামনা করছি। দীর্ঘ একমাস দিন এবং রাত মিলিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা এর পেছনে ব্যয় করেছি। ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে সুন্নিয়তের খেদমতে আরো এপ আসছে। আল্লাহ্‌ যেন আমাকে সুস্থ রাখেন এবং এ কাজের জন্য কবুল করেন। ঘণ্টার হিসেবে প্রায় ৪০০ ঘণ্টা লেগেছে। এর প্রতিদান আমি মহান রবের কাছে শেষ বিচারের দিনে চাইবো এবং তাঁর প্রিয় হাবীব ﷺ-এর হস্ত মুবারক থেকে নিতে যেন আল্লাহ্‌ পাক কবুল করুন। আমীন!

Install ইনস্টল করুন

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

যেভাবে শেখ শরফুদ্দীন رحمة الله عليه পরিচিত হয়ে ওঠেছিলেন বু-আলী কালন্দর শাহ নামে

যেভাবে শেখ শরফুদ্দীন رحمة الله عليه পরিচিত হয়ে ওঠেছিলেন বু-আলী কালন্দর শাহ নামে
✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒


নাম-শেখ শরফুদ্দীন
উপাধী-বু আলী কালন্দর
ঈমামুল মুসলেমীন,সিরাজুল উম্মাহ,
ঈমামে আজম আবু হানিফা রহ: এর ৭ম অধস্তন বংশধর।

ওনার কাশফ ক্ষমতা এতটাই প্রখর ছিল
যে যখন চিশতীয়া তরিকার আধ্যাত্নিক সাধক শেখ ফরিদউদ্দীন গঞ্জেশকর رحمة الله عليه ওনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার জন্য গিয়েছিলেন তখন শেখ ফরিদ رحمة الله عليه এর দিকে দৃষ্টি পড়তেই বলেছিলেন,
আপনাকে বাইয়াত করার মত যোগ্যতা আমার নেই,
আপনি দিল্লীর কুতুবউদ্দীন বখতিয়ারের (খাজা গরীব নাওয়াজ رحمة الله عليه ওনার প্রধান খলিফা) কাছে যান...
ওনারই একমাত্র যোগ্যতা আছে আপনাকে বাইয়াত করানোর...

ওনার পীর হযরত খাজা নিজামউদ্দীন আওলিয়া رحمة الله عليه
নদীর তীরে একটি ইবাদতখানা নির্মাণ করে এতে জিকির করতেন...
শেখ শরফুদ্দীন رحمة الله عليه সেই ইবাদতখানার সোজাসুজি নীচে,
পানিতে দাড়িয়ে আল্লাহর জিকির আরম্ভ করলেন............

দীর্ঘ ১২ বছর পানিতে দাড়িয়ে ইবাদতে মশগুল থাকার কারণে তার শরীরের নিম্নাংশের গোশত পচন ধরে এবং মাছে তা খেতে থাকে...
এমন অবস্থায় তিনি খাজা খিজির (আঃ) এর দর্শন লাভ করেন...

এরুপ অবস্থায় একদিন তিনি আসমান হতে গায়েবী আওয়াজ শুনতে পেলেন!-শরফুদ্দীন!তোমার রিয়াজত ও কঠোর সাধনা আমি কবুল করেছি এবং তোমার প্রতি আমি সন্তুষ্ট।
তোমাকে আমার দোস্তগণের অন্তর্ভুক্ত করে নিলাম।
তোমার কি চাইবার আছে বলো?
আমি তোমার বাসনা পূর্ণ করবো
শেখ শরফুদ্দীন رحمة الله عليه
বললেন: মাবুদ!আপনি আলিমুল গায়েব!
আপনি জানেন, আপনাকে পাওয়া ছাড়া ভিন্ন কোন বাসনা আমার নেই।
আপনি আমার একমাত্র কাম্য।
আমার অন্তরের বাসনা এভাবে পানিতে দাড়িয়ে আপনার রাস্তায় জীবন শেষ করে দেই
তখন আবার গায়েব হতে আওয়াজ আসল:
পানি হতে ওঠে এসো এখানেই তোমার কাজ শেষ নয়।
তোমার জন্য করণীয় আরও অনেক কাজ রয়েছে।
উত্তরে তিনি বললেন:-
আপনি নিজ হাতে আমাকে এখান থেকে না ওঠানো পর্যন্ত আমি ওঠব না।
এই কথা বলেই তিনি বেহুশ হয়ে গেলেন।
এমন সময়ে একজন বুযুর্গ ব্যাক্তি এসে ওনাকে কোলে করে নদী হতে তীরে ওঠালেন।

শেখ শরফুদ্দীন رحمة الله عليه চোখ খুলেই সেই ব্যাক্তিকে বললেন: কে তুমি ভাই..??
তুমি তো আমার দীর্ঘকালের রিয়াজত নষ্ট করে দিলে!।
একটু পরেই আমি আমার লক্ষে পৌছে যেতাম কেন তুমি আমাকে বাধা দিলে..?
কেন তুমি আমার সর্বনাশ করলে..?

বুযুর্গ ব্যাক্তি তার এই অবস্থা দেখে বলল:-বৎস,তুমি আমাকে চিনতে পারনি!?
আমি আলী ইবনে আবী তালেব।
তুমি কি জানো না! যে আমাকে আল্লাহর হাত বলা হয়??
তুমি শান্ত হও, স্থির হও, তোমার সাধনা পুর্ণ হয়েছে...
একথা শুনেই শেখ শরফুদ্দীন رحمة الله عليه সিজদায় পরে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করলেন এবং ভক্তিভরে হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) কে কদমবুচি করলেন।
হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) ওনাকে কয়েকটি উপদেশ দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ওনি বু-আলী কালন্দর নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যান।

ভারতের রাজধানী দিল্লীর পানিপথ নামক স্থানে
এই মহান সাধকের মাজার অবস্থিত।
আল্লাহপাক এই মহান ওলীর রূহানী ফুয়ুজাত আমাদের দান করুক...
আমিন!

 ফেইসবুকে আমি 

সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শিয়াদের জঘন্য আক্বিদা সমূহ

শিয়াগণ যদিও রাজনৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ; কিন্তু পরবর্তীকালে তারা ধর্মীয় ক্ষেত্রে কতিপয় মতবাদ তৈরী করেছে।
যেগুলোর সাথে সুন্নী মতবাদ সমূহ সাংঘর্ষিক ।
তা নিম্নরূপ:
১. শিয়ারা কালেমায়ে তাইয়্যেবা لا اله الا الله محمد رسول الله এর সাথে و على خليفة الله বৃদ্ধি করে থাকে, (শিয়া–সুন্নী ইখতেলাফ , পৃ:১৬ এবং মুসলিম সংস্কৃতির ইতিহাস, পৃ:৩২
.
২. শিয়াদের মতে ,ইমামত ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত ।
.
৩.শিয়াদের মতে,ইমামত হযরত মুহাম্মদ এর বংশধরদের জন্মগত অধিকার ।
যেহেতু তার কোন যুবক পুত্র দিলো না, সেহেতু হযরত আলী ও হযরত ফাতেমার বংশধরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ।
.
৪. মহান বীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ইন্তেকালের পর যারা খলিফা হয়েছিলেন তারা হযরত আলীকে ন্যায় সংগত অধিকার হতে বন্ঞ্চিত রেখেছেন এবং তারা জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারী ছিলেন।
ফলে তাঁরা কাফির ও মুরতাদ হয়ে গেছেন । ( নাউজুবিল্লাহ) ( শিয়া-সুন্নী ইখতেলাফ, পৃ:১২)
.
৫. শিয়া মতানুসারে ইমাম জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচিত হতে পারে না।
কারণ জনগনের নির্বাচিত ক্রটিযুক্ত ।
তাই ইমাম আল্লাহ তা,য়ালা কর্তৃক মনোনীত হবেন এবং তিনি হবেন নিষ্পাপ ।
তাকে জনগণ কর্তৃক অপসারণ করা যাবে না ।
.
৬. শিয়াগণ মনে করে , মানুষ ও আল্লাহর মাঝে মধ্যস্থতাকারী হলেন ইমাম ।
তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত ।
.
৭.ইমাম শুধু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতাই নন পার্থিব নেতাও বটে ।
চরমপন্থী শিয়ারা ইমামকে আল্লাহ পাকের প্রতিনিধি হিসেবে মনে করে ।
.
৮. শিয়াগণ হযরত আবু বকর, হযরত ওমর ও হযরত ওসমান (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু)-ওনাদের খিলাফতকে অস্বীকার করে।
এমনকি তারা উমাইয়া ও আব্বাসীয় খেলাফতকে অস্বীকার করে।
হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ) ওনাকে বঞ্চিত করায় তারা যালিম , মুনাফিক ও জাহান্নামী-(নাউজুবিল্লাহ) ।
(ইসলাম আওর খামেনী মাযহাব, পৃ:৪৮)
.
৯.শিয়াদের আক্বিদা হল, হযরত আলী রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে রূহানী শক্তি প্রাপ্ত এবং হযরত আলীর শরীরে আল্লাহর পবিত্র গৌরবের রশ্মি নিপতিত হয়েছিল।
হযরত আলী রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওনার বংশধরদের মধ্যেও এই খোদায়ী নূর সংক্রমিত হয়েছে ।
সুতরাং তারা পাপ বা ভুল করতে পারেন না।
.
১০. শিয়াদের মতে,ইমাম অবিভাজ্য এবং একই সময়ে দুইজন ইমাম এর যুগপৎ আর্বিভাব অসম্ভব।
.
১১. শিয়াগণ হযরত আলীর মুহাব্বতে অতিরঞ্জন করে বলত যে, প্রকৃতপক্ষে ওহী নাযিল হয়েছিল হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) ,র প্রতি ; কিন্তু জিব্রাঈল (আ:) ভুল করে হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওনার নিকট নিয়ে গেছেন ।
.
১২. শিয়ারা কোরআনের চিরন্তনতা ও অবিনশ্বর স্বীকার করে না।
তারা বলে কোরআন সৃষ্ট ও নশ্বর।
.
১৩. দ্বাদশ পন্থী শিয়াদের মতে, তাদের দ্বাদশ পন্থী ইমাম মুহাম্মাদ আল মুন্তাযির কিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদী হিসেবে আবির্ভূত হবেন ।
আবার এক শ্রেণীর শিয়ার বিশ্বাস হচ্ছে, হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)'র পুত্র মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ আল্লাহর হুকুমে আত্মগোপন করে আছেন , এক সময় তিনি ইমাম মাহদী রূপে পুনরায় আগমন করবেন।
.
১৪. শিয়াদের মতে , পবিত্র কোরআন ও হাদিস ইসলামী জ্ঞানের উৎস ।
কাজেই ইজমা ও কিয়াসের কোন প্রয়োজন নেই।
.
১৫. শিয়াগণ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস , ইবনে ওমর , হযরত আয়েশা (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু) ওনাদের হাদিস মানে না।
কারণ তারা নাকি হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)ওনার ব্যাপারে হুজুর ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওনার অন্তিম উপদেশ গোপন করেছেন ।
.
১৬. শিয়াদের একটি বিরাট অংশ বিশেষ করে ইসমাইলিয়ারা বিশ্বাস করে যে,ইমাম ইসমাঈল আখেরী নবী । ( মুসলিম সংস্কৃতি ইতিহাস , পৃ:২৩৩)
.
১৭. কোরআন শরীফে তাহরীফ করা হয়েছে ।
যেমন:– কোরআনের মোট আয়াত ১৭,০০০ (সতর হাজার ), তা থেকে হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু) ওনার খিলাফত ও আহলে বায়তে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কিত ১০,৩৩৪ (দশ হাজার তিনশত চৌত্রিশ) আয়াত বাদ দেয়া হয়েছে ।
৬,৬৬৬ (ছয় হাজার ছয়শত ছেষট্টি ) আয়াত কেই শুধু কোরআন মান্যকারী মিথ্যাবাদী ।
নাউজুবিল্লাহ (ইরানী ইনকিলাব,পৃ:২৫৯ এবং ইসলাম আওর খামেনী মাযহাব,পৃ:৫৪,৫৫)
.
১৮.মোতা,বা সাময়িক বিয়ে বৈধ; বরং সওয়াবের কাজ ।
অর্থাৎ একজন মুসলমান পুরুষ ও নারী অর্থের বিনিময়ে কিছুক্ষণ যৌনসঙ্গম করতে পারবে ।
(ইসলাম ও খামেনী মাযহাব, পৃ:৪৩৮)
.
১৯. 'তাকীয়া' অর্থাৎ আসল বিষয়কে গোপন করে , মুখে ভিন্ন ধরনের মত প্রকাশ করা জায়েয এবং "তা বার রা" অর্থাৎ শিয়া নয় এমন সব মুসলমানদের মনে প্রাণে ঘৃণা করা । (ইসলাম ও খামেনী মাযহাব পৃ :৪৩৭,৪৩৮
.
.ফেইসবুকে আমি
বি দ্রঃ সকল সুন্নী মুসলমান ভাইদের ঈমান হেফাজতের লক্ষ্যে
#শেয়ার করার অনুরোধ রইল



শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিভিন্ন ফেরকা বা মতবাদের উৎপত্তি

বিসমিল্লাহর রহমানির রহিম
ইসলামে তৃতীয় খলিফা হযরত সৈয়্যদুনা ওসমান গণি যিননুরাঈন (রাদ্বিয়াল্লাহু তা"য়ালা আনহু) ওনার দীর্ঘ খেলাফতকালে ইসলামের চিরশত্রু ইয়াহুদি - নাসারা ও কাফের চক্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামক জনৈক ইয়াহুদী মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও দলাদলি সৃষ্টির লক্ষ্যে নামমাত্র ইসলাম গ্রহন করে ।
অতঃপর সে তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কাজ শুরু করে।
অল্প দিনের মধ্যে সে বিভিন্ন স্থানে তার ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে সক্ষম হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক মুসলমানদেরকে তার খপ্পরে ফেলতে সামর্থ হয়।
তার অনুসারীগণ প্রথম দিকে 'সাবায়ী' নামে চিহ্নিত হয়।
তারই ষড়যন্ত্রে তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান গণি রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আন হু শাহাদাত বরণ করেন ।
অতঃপর ইসলামের চতুর্থ খলিফা সৈয়্যদুনা মাওলা আলী মুরতাযা (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আন হু) এর খিলাফতকালে হযরত ওসমান গণি রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওনার শাহাদাত কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার সূচনা হয়।
একদিকে মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে, অন্যদিকে গোপনে গোপনে তৃতীয় অপশক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে সা বার দল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে ।
অবশেষে হযরত আলী ও হযরত আমীরে মোয়াবীয়া( রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু) ওনার মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হলে এ অপশক্তি উভয়ের অজ্ঞাতসারে পরিকল্পিত পন্থায় সমঝোতার পথ রুদ্ধ করে দেয়।
তখনও ষড়যন্ত্রকারী শক্তি হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু) ওনার অজ্ঞাতসারে দলেই আত্মগোপন করে অবস্থান করছিল।
অতঃপর হযরত আলী ও হযরত মোয়াবীয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু এর বিরোধ মীমাংসার পদক্ষেপ হিসেবে দুজন সাহাবী , হযরত আবু মূছা আশআরী ও হযরত আমর ইবনুল আস ( রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) কে সালিশ মনোনীত করা হলে হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ) ওনার দলে আত্মগোপনকারী ইবনে সাবার অনুসারীগণ আল্লাহ ছাড়া অপর কাউকে বিচারক মানার অভিযোগে হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) কে কাফির ফতোয়া দিয়ে প্রকাশ্যে তাঁর দল থেকে খারিজ বের হয়ে যায়।
ইসলামের ইতিহাসে এরা 'খারেজী '(দল ত্যাগকারী ) হিসেবে পরিচিত ।
এরাই ইসলামের আর্বিভূত প্রথম ভ্রান্ত দল।
ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা সুযোগে হযরত আলী (রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) ওনার প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শনকারী আরেকটি দলের সৃষ্টি হয় ।
ইতিহাসে এরা 'শিয়া' নামে পরিচিত ।
খারেজী ও শিয়া উভয়ের আত্মপ্রকাশ প্রথম দিকে রাজনৈতিক কারণে হলেও পরবর্তীতে এরা কোরআন সুন্নাহর পরিপন্থী জঘন্য কুফরী আক্বীদা পোষণ করতে আরম্ভ করে।
কাল ক্রমে , এ দু'দল আরো অনেক উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
এ ছাড়াও পরবর্তীতে অসংখ্য ফিরকায় উদ্ভব হয়েছে ।
এর মধ্যে যে আক্বিদা আমাদের পোষণ করা ফরজ তা ,আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদা,